বিস্ফোরক বিরাট কোহলির মন্তব্যে তোলপাড় ক্রিকেট মহল
_0.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,738&ssl=1)
২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে গত এক বছর ধরে চলা লাগাতার জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন বিরাট কোহলি। তবে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে ভারতীয় ক্রিকেট সার্কিটে। আরসিবি পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোহলি সাফ জানিয়েছেন, তিনি এখনও দেশের হয়ে খেলতে সম্পূর্ণ আগ্রহী, তবে দলে টিকে থাকার জন্য বারবার নিজের যোগ্যতা বা ‘মূল্য’ প্রমাণ করার পক্ষে তিনি নন। কোহলির এই কড়া অবস্থান বোর্ড (বিসিসিআই) এবং বর্তমান হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের প্রতি পরোক্ষ বার্তা কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা।
কোহলির স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি যে পরিবেশে খেলছেন সেখানে যদি অবদান রাখার যোগ্য বলে বিবেচিত হন, তবেই তাঁকে মাঠে দেখা যাবে। কিন্তু প্রতি মুহূর্তে যদি তাঁকে পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়, তবে সেই জায়গায় থাকার কোনো মানে নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩১১টি ওয়ান ডে ম্যাচে ১৪,৭৯৭ রান এবং ৫৪টি শতরানের মালিক হওয়া সত্ত্বেও কেন বারবার তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন টিম ইন্ডিয়ার এই মহাতারকা।
ফিটনেস ও মানসিকতার অনড় অবস্থান
বয়স বা দীর্ঘ অভিজ্ঞতা যে তাঁর কাজের তীব্রতা কমাতে পারেনি, তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিরাট। দলের প্রয়োজনে ওয়ান ডে ম্যাচে ৪০ ওভার বাউন্ডারি লাইনে দৌড়াতেও তিনি প্রস্তুত এবং প্রতিটি বলকে কেরিয়ারের শেষ ডেলিভারি মনে করেই তিনি মাঠে নামেন। গত মরসুমে দিল্লির হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলার অভিজ্ঞতা টেনে তিনি জানান, পারফর্ম করার পরেও যেভাবে এক সপ্তাহে তাঁকে যোগ্য বলা হয় এবং পরের সপ্তাহে আবার প্রশ্ন তোলা হয়, সেই দ্বিমুখী নীতি আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কোহলি সরাসরি দাবি তুলেছেন, ম্যানেজমেন্টের মনোভাব পরিষ্কার হওয়া উচিত।
ভবিষ্যতের প্রভাব ও বোর্ডকে বার্তা
বিরাটের এই বিস্ফোরক বিবৃতির পর ভারতীয় ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ওয়ান ডে ফরম্যাটে তিনি এখনও দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ খেলার মানসিক প্রস্তুতি তাঁর থাকলেও, মূল্যায়নের প্রক্রিয়াটি যেন উভয় পক্ষ থেকে সমান মর্যাদার হয়—এই শর্ত জুড়ে দিয়েছেন কোহলি। এই মন্তব্যের পর আসন্ন সিরিজগুলোতে টিম ম্যানেজমেন্ট ও কোচের সঙ্গে কোহলির সমন্বয় কেমন থাকে এবং বিসিসিআই এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।