চিনারা ফুটবল বিশ্বকাপের চুক্তি সেরে ফেলল, অথচ ভারত এখনও চরম অন্ধকারে

চিনারা ফুটবল বিশ্বকাপের চুক্তি সেরে ফেলল, অথচ ভারত এখনও চরম অন্ধকারে

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর একমাসও বাকি নেই, কিন্তু ভারতের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। দেশের দর্শকরা কোথায়, কীভাবে খেলার সরাসরি সম্প্রচার দেখতে পাবেন, তা নিয়ে এখনও তুঙ্গে অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছে যে গোটা বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আসন্ন টুর্নামেন্ট সম্প্রচার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রসার ভারতীকে নোটিস পাঠিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতি পুরুষাইন্দ্র কুমার কৌরব এই নোটিস জারি করেন। আবেদনকারী আইনজীবীর দাবি, ২০০৭ সালের ‘স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং সিগন্যালস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী ফুটবল বিশ্বকাপ একটি ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া আয়োজন’। ফলে সাধারণ মানুষের বিনোদনের স্বার্থে দূরদর্শন বা ডিডি স্পোর্টসের মতো ফ্রি-টু-এয়ার প্ল্যাটফর্মে সরাসরি খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

পড়শি দেশের তৎপরতা বনাম ভারতের স্থবিরতা

ভারতের এই চরম দোলাচলের মধ্যেই বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সমস্ত চুক্তি চূড়ান্ত করে ফেলেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিন। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা সিসিটিভির মূল সংস্থা ‘চায়না মিডিয়া গ্রুপ’ বিশ্বফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সেরে ফেলেছে। ফিফা আগেই জানিয়েছিল যে ভারত এবং চিনের মতো দুটি বিশাল বাজারেই তাদের সম্প্রচার স্বত্ব আটকে রয়েছে। কিন্তু চিনারা শেষ মুহূর্তে নিজেদের সমস্যার সমাধান করে ফেললেও ভারতীয় বাজার নিয়ে এখনও কোনও রফাসূত্র মেলেনি।

আর্থিক দর কষাকষি এবং বিজ্ঞাপনের বাজার নিয়ে সংশয়

এই সম্প্রচার জট তৈরির প্রধান কারণ হলো ফিফার সঙ্গে ভারতীয় সংস্থাগুলির আর্থিক দর কষাকষি। প্রাথমিকভাবে ফিফা ২০২৬ এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের ভারতীয় সম্প্রচার স্বত্বের দাম ধরেছিল প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। বাজারে আগ্রহের ঘাটতি দেখে পরবর্তীতে সেই দর কমিয়ে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলারে নামানো হলেও ভারতের কোনও প্রথম সারির সম্প্রচার সংস্থা এখনও পর্যন্ত চুক্তি সই করতে এগিয়ে আসেনি।

এর পেছনে কিছু বাস্তবসম্মত কারণও রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারতের সময় অনুযায়ী ম্যাচগুলি সম্প্রচারিত হবে গভীর রাতে অথবা কাকভোরে। সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলির আশঙ্কা, আসাময়ের কারণে দর্শকসংখ্যা এবং বিজ্ঞাপনের বাজার—উভয়ই মারাত্মকভাবে ধাক্কা খাবে। পাশাপাশি, ভারতের বড় বড় মিডিয়া হাউসগুলি ইতিমধ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেটের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে ফেলেছে, ফলে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে বড় অঙ্কের আর্থিক ঝুঁকি নিতে তারা নারাজ।

আশাবাদী ফেডারেশন এবং শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা

চলতি বছরের ১১ জুন থেকে শুরু হতে চলা এই মেগা টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই। হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি থাকলেও অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) অবশ্য এখনই আশা হারাচ্ছে না। ফেডারেশনের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি এম সত্যানারায়ণের মতে, ভারতের মতো বিশাল এক ফুটবল ভক্তদের বাজারকে ফিফা পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারবে না। তবে শেষ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপ সাধারণ টিভির পর্দায় পৌঁছাবে নাকি আদালতের হস্তক্ষেপে কোনও বিকল্প ব্যবস্থার সৃষ্টি হবে, সেই উত্তর পেতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে দেশের ক্রীড়ামোদীদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *