বিদেশ ঘুরতে গেলেই বাড়বে খরচ? জ্বালানি সাশ্রয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশবাসীকে অপ্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের সূত্র ধরেই সম্প্রতি দেশজুড়ে জল্পনা শুরু হয় যে, বিদেশযাত্রার ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বা সেস বসাতে চলেছে কেন্দ্র। তবে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের সমস্ত জল্পনা ও খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, বিদেশ ভ্রমণে অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব নিয়ে সরকারের শীর্ষ স্তরে আলোচনা চলছে এবং এই সেস এক বছরের জন্য কার্যকর হতে পারে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী উক্ত পোস্টটি শেয়ার করে স্পষ্ট জানান, এই খবর পুরোপুরি মিথ্যে এবং এর মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। বিদেশ ভ্রমণে এমন কোনো বিধিনিষেধ বা অতিরিক্ত কর আরোপের প্রশ্নই ওঠে না। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি বার্তার পর সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি তাদের ভুল স্বীকার করে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের আসল কারণ ও সরকারি উদ্যোগ
মূলত পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ডিজেল-পেট্রল কম ব্যবহারের পাশাপাশি কারপুল করা, গণপরিবহন ব্যবহার এবং সম্ভব হলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করার আহ্বান জানান। এমনকি তিনি সরকারি স্তরেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজের সাম্প্রতিক সফরে কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়েছেন এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারে জোর দিচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টসহ একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যও সপ্তাহে দুদিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে এই সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করছে।
অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
বিদেশযাত্রায় বাড়তি করের গুঞ্জনটি সত্য হলে পর্যটন শিল্প এবং আন্তর্জাতিক স্তরে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের ওপর বড় আর্থিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত এই বিভ্রান্তি দূর করায় সাধারণ নাগরিক ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রের এই কড়াকড়ি আসলে বাজেট বা ব্যয়ের কাটছাঁট নয়, বরং বৈশ্বিক সংকটের সময়ে দেশের জ্বালানি সম্পদকে আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করার একটি আগাম ও সচেতন উদ্যোগ।