আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জের, দেশে জ্বালানির কর কাঠামোয় বড় বদল আনল কেন্দ্র

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যেই দেশের জ্বালানি রফতানি কর কাঠামোতে বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র সরকার। পেট্রল রফতানির উপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করার পাশাপাশি ডিজেল ও বিমানের জ্বালানির (এটিএফ) রফতানি শুল্ক একধাক্কায় অনেকটাই কমানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন এই কর কাঠামো আজ, ১৬ মে থেকেই কার্যকর করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দেশীয় বাজারেও দীর্ঘ চার বছর পর একযোগে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি।
রফতানি শুল্কে বড় রদবদল
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পেট্রল রফতানির উপর প্রতি লিটারে ৩ টাকা করে অতিরিক্ত এক্সাইজ ডিউটি বা উইন্ডফল ট্যাক্স বসানো হয়েছে। সেন্ট্রাল এক্সাইজ অ্যাক্ট, ১৯৪৪ এবং ফিনান্স অ্যাক্ট, ২০০২-এর ধারা মেনে জনস্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। এর বিপরীতে স্বস্তি মিলেছে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির ক্ষেত্রে। ডিজেল রফতানির শুল্ক প্রতি লিটারে ২৩ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬.৫ টাকা এবং এটিএফ-এর ক্ষেত্রে শুল্ক ৩৩ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা প্রতি লিটার করা হয়েছে। তবে পেট্রল ও ডিজেল রফতানির ক্ষেত্রে কোনও রোড ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেস কার্যকর হবে না।
দেশীয় বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা
রফতানি শুল্ক সংশোধনের সমান্তরালে দেশীয় বাজারেও জ্বালানির দাম একলাফে অনেকটাই বেড়েছে। দিল্লিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৩ টাকা করে বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে পেট্রলের নতুন দাম হয়েছে ৯৭.৭৭ টাকা এবং ডিজেল ৯০.৬৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের মেট্রো শহরগুলিতে। কলকাতা, মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলিতে পেট্রলের দাম ইতিমধ্যেই ১০০ টাকার গণ্ডি পার করে গেছে, যা মধ্যবিত্তের পকেটে নতুন করে টান দেবে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশ্ব বাজারের সরবরাহ বজায় রাখতেই রফতানি শুল্কের এই নতুন ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে রফতানি শুল্কের এই রদবদল দেশের তেল সংস্থাগুলির মুনাফায় প্রভাব ফেলবে, অন্যদিকে দেশীয় বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।