মাইক বাজানোয় বাধা দিতেই তুলকালাম আসানসোলে! পুলিশ ফাঁড়ি ও গাড়িতে ভাঙচুর, নামল বিশাল পুলিশবাহিনী

মাইক বাজানোয় বাধা দিতেই তুলকালাম আসানসোলে! পুলিশ ফাঁড়ি ও গাড়িতে ভাঙচুর, নামল বিশাল পুলিশবাহিনী

পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে ধর্মীয় উপাসনালয়ে তীব্র আওয়াজে লাউডস্পিকার বাজানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে একদল উপদ্রবী পুলিশ ফাঁড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত আসানসোলের রেলপাড় এলাকায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনে আসানসোল পুলিশের জাহাঙ্গীরী মহল্লা ফাঁড়ির একটি দল ওই এলাকায় যায়। সেখানে লাউডস্পিকারের শব্দসীমা নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে প্রশাসনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই বার্তার পর স্থানীয় মন্দির ও মসজিদগুলোতে আলোচনা সভাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু এর মাঝেই আচমকা কিছু দুষ্কৃতী জাহাঙ্গীরী মহল্লা পুলিশ ফাঁড়িতে চড়াও হয়। তারা ফাঁড়ি প্রাঙ্গণ এবং সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। উন্মত্ত জনতা পুলিশ ও সাধারণ মানুষের বেশ কয়েকটি গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে, যার ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আইনভঙ্গকারীদের চিহ্নিতকরণ ও কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আসানসোলের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বি.জি. সতীশ পাসুমার্থী জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করতে ওই এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। দাঙ্গাবাজ ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকার জের ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজ্যে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে তীব্র আওয়াজে লাউডস্পিকার বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করা এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া গবাদি পশু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো কিছু বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই আসানসোলে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছিল। তবে এই ঘটনার পর রাজ্যের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং নতুন সামাজিক ও প্রশাসনিক নির্দেশিকাগুলো শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *