হরমুজ প্রণালীর বিকল্প রুটে ভারতের মেগা প্রজেক্ট ওমান থেকে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে আসবে গ্যাস

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জেরে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক সংকটের আবহে ভারতের নিজস্ব শক্তি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নয়াদিল্লি। দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা ওমান-ভারত গভীর সমুদ্র গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পকে (OIDMPP) পুনরায় সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রজেক্টটি বাস্তবায়িত হলে খামখেয়ালি আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের ওপর ভারতের নির্ভরতা অনেকটাই কমবে।
সাগরের তলদেশ দিয়ে ১৬০০ কিলোমিটারের রুট
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওমানের রাস আল জিফান থেকে গুজরাটের পোরবন্দর পর্যন্ত আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন স্থাপন করা হবে। সমুদ্রের বুকে কোনো কোনো অংশে এই পাইপলাইন প্রায় ৩,৫০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছাবে। বর্তমানে এলএনজি ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জলপথে গ্যাস আমদানি করা হলেও, এই গভীর সমুদ্র পাইপলাইনটি অনেক বেশি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে প্রতি এমএমবিটিইউ গ্যাসে অন্তত ২ থেকে ৩ ডলার সাশ্রয় হওয়া সম্ভব, যা ভারতের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মূলত হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতেই এই বিকল্প রুটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভারতে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। এই বিপুল পরনির্ভরশীলতা কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার কেবল ওমান নয়, অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক পাইপলাইন সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে তামিলনাড়ুর নাগাপট্টিনম থেকে শ্রীলঙ্কার ত্রিনকোমালি পর্যন্ত একটি তেল পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটের সময়ে এই ওমান-ভারত পাইপলাইন প্রকল্পে গতি আনা ভারতের জন্য অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত। এই প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হলে তা ভারতের সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জ্বালানি খাতে আত্মনির্ভরতা অর্জনে একটি প্রধান গেমচেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হবে।