শুভেন্দুর কনভয়ে হামলা মামলায় বড় পদক্ষেপ, কোচবিহারে গ্রেফতার ৩ তৃণমূল নেতা

কোচবিহারের খাগড়াবাড়িতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনায় দীর্ঘ এক বছর পর বড়সড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কোচবিহার-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি শুভঙ্কর দে সহ তিন শাসকদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ। ধৃত অন্য দুজন হলেন পুন্ডিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান নূর আলম এবং বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্য রঘুনাথ সরকার। খাগড়াবাড়ি এলাকা থেকেই পুলিশ তাদের পাকড়াও করে। এই ঘটনার তালিকায় উদয়ন গুহ এবং অভিজিৎ দে ভৌমিকের মতো হেভিওয়েট নাম থাকায় জেলা রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
হামলার নেপথ্যে কী ছিল?
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ৫ অগাস্ট। কোচবিহারে বিজেপি বিধায়কদের ওপর লাগাতার হামলার প্রতিবাদে আদালতের অনুমতি নিয়ে তৎকালীন পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ, খাগড়াবাড়িতে তৃণমূলের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন আচমকাই শাসকদলের নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পুলিশের উপস্থিতিতেই শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় লক্ষ্য করে ব্যাপক ইট-বৃষ্টি শুরু হয়, যার জেরে ভেঙে যায় তাঁর গাড়ির কাঁচ। রেহাই পায়নি পুলিশের গাড়িও। ওই ঘটনার পর প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ এবং তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক সহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিরোধী দলনেতা।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও রাজনৈতিক প্রভাব
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় ইতিপূর্বে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সম্প্রতি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পর নতুন করে এই তিন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ধৃত শুভঙ্কর দে জেলা রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক নির্বাচনেও তিনি দলের এক অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন।
এই হেভিওয়েট গ্রেফতারির জেরে পুন্ডিবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।