তেল-সোনা ও বিদেশ যাত্রা বিতর্ক: ‘পুরোটাই মিথ্যা’, ‘এক্স’-এ কড়া জবাব পিএম মোদীর

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের বিদেশ ভ্রমণের ওপর সরকার অতিরিক্ত কর বা বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে— এমন একটি খবর সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে উদ্ভূত এই বিতর্ক ও জল্পনায় জল ঢেলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘X’ (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর পোস্টে লেখেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এর মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। বিদেশ ভ্রমণের ওপর এই ধরনের কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করার প্রশ্নই ওঠে না। দেশের নাগরিকদের জন্য ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’ এবং ‘ইজ অফ লিভিং’ বা জীবনযাত্রা সহজ করার বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া প্রতিক্রিয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেয় এবং ভুল খবর প্রকাশের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে।
গুজবের সূত্রপাত ও বিশ্ব বাজারের প্রভাব
চলতি বছরের শুরু থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮৫ শতাংশেরও বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিতে তার বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা থাকে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়ে ওয়ার্ক ফ্রম হোম, ভিডিও কনফারেন্সিং এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বিদেশ যাত্রায় অতিরিক্ত কর আরোপের ভুয়ো খবর ছড়ানো হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পে সম্ভাব্য প্রভাব
এই ধরনের বিভ্রান্তিকর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দেশের পর্যটন শিল্প, বিমান পরিষেবা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক ধরণের অনীহা ও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে যারা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বা ছুটিতে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের মধ্যে কর বৃদ্ধির আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত এবং সরাসরি হস্তক্ষেপে সেই ধোঁয়াশা কেটে গেছে। সরকারের এই সময়োপযোগী খণ্ডন বাজার ও সাধারণ নাগরিকদের মাঝে স্বস্তি ফেরানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।