বাংলায় কি এবার ডিলিমিটেশন, বিধানসভা আসন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

বাংলায় কি এবার ডিলিমিটেশন, বিধানসভা আসন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

প্রতিবেশী রাজ্য আসামের পর এবার কি পশ্চিমবঙ্গেও হতে চলেছে ডিলিমিটেশন বা নির্বাচন কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ? গতকাল বিধানসভায় নতুন স্পিকার রথীন্দ্র বসু নির্বাচনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায় এমনই এক ইঙ্গিত মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ডিলিমিটেশন হলে রাজ্যে বিধানসভা আসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যে একটি নতুন বিধানসভা ভবন নির্মাণের প্রয়োজন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঐতিহাসিক অধিবেশনের সাক্ষী থাকা রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভবিষ্যতে একাধিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। যদি ডিলিমিটেশন হয়, তবে বিধানসভা আসনের সংখ্যা অনেকটা বাড়তে পারে। রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দেশজুড়ে ডিলিমিটেশন নিয়ে কেন্দ্রের সম্ভাব্য উদ্যোগের জল্পনার মাঝেই এই ইঙ্গিত সরাসরি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

আসন বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনা

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে শাসক দল। এর আগে ২০২৩ সালে আসামে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গেও যদি অনুরূপ প্রক্রিয়া কার্যকর হয়, তবে প্রতিটি জেলার বিধানসভা আসন সংখ্যায় বড় ধরনের রদবদল ঘটতে পারে। এর ফলে আগামী দিনে রাজ্যের সামগ্রিক নির্বাচনী মানচিত্র এবং ক্ষমতা বিন্যাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ও সংসদীয় সংস্কার

সীমানা পুনর্নির্ধারণের ইঙ্গিতের পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গতকাল একটি বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন থেকে বিধানসভার সমস্ত কার্যক্রম সাধারণ মানুষের দেখার জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বিধানসভার কার্য পরিচালনায় বিরোধীদের সহযোগিতার আশা প্রকাশ করার পাশাপাশি অতীতের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলনেতাকে দীর্ঘদিন অধিবেশনের বাইরে রাখার ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, গণতান্ত্রিক পরিসরে হিংসা বা বিধানসভার কাজ ব্যাহত করার সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে নবনির্বাচিত অধ্যক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, বিরোধীদের বক্তব্য রাখার জন্য যেন পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *