নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্যানেলে প্রধান বিচারপতির উপস্থিতি জরুরি নয়, সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্র

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্যানেলে প্রধান বিচারপতির উপস্থিতি জরুরি নয়, সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্র

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগের বাছাই কমিটি থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে (সিজেআই) বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ বৈধ বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এক হলফনামায় কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ কমিটিতে বিচারবিভাগের প্রতিনিধিত্ব থাকা কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি একটি আইনি বিকল্প মাত্র। বিগত সাত দশক ধরে যেভাবে নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে আসছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির একটি বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনায় জানিয়েছিল, যতক্ষণ না সংসদ কোনো নির্দিষ্ট আইন তৈরি করছে, ততক্ষণ প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতার সমন্বয়ে গঠিত কমিটি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করবে। পরবর্তীতে দেশের সংসদ ‘সিইসি এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্তাবলী এবং কার্যকাল) আইন ২০২৩’ পাস করে। এই নতুন আইনে প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে একজন কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আইনের বৈধতা ও কেন্দ্রের যুক্তি

আদালতে পেশ করা হলফনামায় কেন্দ্রীয় সরকার আবেদনকারীদের সমস্ত অভিযোগ খণ্ডন করেছে। কেন্দ্রের মতে, প্রধান বিচারপতির জায়গায় একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করলেই নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যখন শুধুমাত্র নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করা হতো, তখনও দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষতা কখনো বিঘ্নিত হয়নি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্বাহী বিভাগের ভূমিকা থাকা মানেই প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নষ্ট হওয়া, এমন ধারণা কেবলই একটি কল্পনা।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার

কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৩ সালের এই নতুন আইনকে পূর্ববর্তী ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত এবং সংস্কারমুখী বলে অভিহিত করেছে। সরকারের দাবি, এই আইনটি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বেশি গণতান্ত্রিক, সহযোগিতামূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে, যা সংবিধানের ৩২৪(২) অনুচ্ছেদের ভাবধারার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাছাই কমিটিতে বিরোধী দলনেতার উপস্থিতিকে একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত রায় আগামী দিনে ভারতের নির্বাচন কমিশনের মতো একটি শীর্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং এতে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপের পরিধি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *