জেলে বসে নেটওয়ার্ক চালাচ্ছেন শাহজাহান, মোবাইল উদ্ধারের পর বিস্ফোরক সন্তানহারা পিতা

জেলে বসে নেটওয়ার্ক চালাচ্ছেন শাহজাহান, মোবাইল উদ্ধারের পর বিস্ফোরক সন্তানহারা পিতা

সন্দেশখালির প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানকে নিয়ে আবারও রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্সি জেলে এক গোপন অভিযানে ২৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসার পর নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনার পর বিস্ফোরক দাবি করেছেন সন্দেশখালির বাসিন্দা ভোলানাথ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, জেলে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিজের অপরাধের নেটওয়ার্ক সচল রেখেছেন শাহজাহান, যার শিকার হতে হয়েছে তাঁর নিজের সন্তানকে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে আকস্মিক তল্লাশি চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ডিউটিতে গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই দুই কারা আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সন্দেশখালির ভোলানাথ ঘোষ দাবি করেন, তিনি এতদিন যে আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন, এই ঘটনা তারই অকাট্য প্রমাণ।

নেপথ্যের কারণ ও মর্মান্তিক অতীত

এই ঘটনার শিকড় লুকিয়ে রয়েছে গত বছরের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে আদালতের মামলার সাক্ষী দিতে যাচ্ছিলেন ভোলানাথ ঘোষ। সেই সময় সন্দেশখালির বয়ারমারি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন বাসন্তী হাইওয়েতে তাঁর গাড়িতে একটি লরি এসে সজোরে ধাক্কা মারে। এই ঘটনায় ভোলানাথের ছেলে এবং তাঁর গাড়িচালকের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

ভোলানাথ ঘোষের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না, বরং তাঁকে স্তব্ধ করার জন্য শেখ শাহজাহানের সাজানো খুন। তাঁর দাবি, জেলে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সন্দেশখালির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে এই খুনের নীলনকশা তৈরি করেছিলেন শাহজাহান। ২৩টি মোবাইল উদ্ধারের ঘটনা ভোলানাথের সেই অভিযোগকেই কার্যত সিলমোহর দিল।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও প্রশাসনের ভূমিকা

হাতে মৃত ছেলের ছবি নিয়ে সন্তানহারা পিতা ভোলানাথ ঘোষ জানান, শাহজাহান জেলে থাকলেও এলাকায় এখনও তাঁর অনুগামীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং সাক্ষীদের লাগাতার হুমকি দিচ্ছে। তিনি এই চক্রের সম্পূর্ণ অবসান ঘটিয়ে ছেলের মৃত্যুর সঠিক বিচারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে আবেদন জানিয়েছেন।

এই ঘটনার ফলে রাজ্যের কারাগারগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বন্দিদের নজরদারির পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত প্রেসিডেন্সি জেলের ভেতরে কীভাবে এতগুলি মোবাইল ফোন পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনা আগামী দিনে সন্দেশখালি মামলার গতিপ্রকৃতি এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *