বিনামূল্যে ৫ লাখ টাকার চিকিৎসা পেলেও আয়ুষ্মান কার্ডে মিলবে না সব সুবিধা!

পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগামী ১ জুন থেকে চালু হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (PM-JAY)। এই প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তারা প্রতি বছর মাথাপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন, যার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে কেন্দ্র। দীর্ঘদিন পর রাজ্যে এই প্রকল্প চালু হওয়ার খবরে আমজনতার মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হলেও, কার্ডের সব সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালে যাওয়ার আগে কোন কোন রোগের চিকিৎসা এই কার্ডে মিলবে না, তা স্পষ্টভাবে জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বিনামূল্যে চিকিৎসার বাইরে থাকছে যেসব পরিষেবা

আয়ুষ্মান ভারত যোজনার নিয়ম অনুযায়ী, সব ধরনের রোগ বা চিকিৎসার খরচ এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত নয়। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বহির্বিভাগ বা ওপিডি (OPD) চিকিৎসা। অর্থাৎ, হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে কেবল চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে পরামর্শ নেওয়া বা ওষুধ কেনার খরচ উপভোক্তাকে নিজেকেই বহন করতে হবে। একইভাবে, হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে করানো কোনো প্যাথোলজিক্যাল বা রেডিওলজিক্যাল টেস্টের খরচ এই কার্ডের মাধ্যমে দাবি করা যাবে না।

প্রাত্যহিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন পুষ্টিবর্ধক উপাদান, যেমন ভিটামিন, সাধারণ টনিক বা সাপ্লিমেন্টের খরচ এই যোজনায় পাওয়া যায় না। তবে গুরুতর অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন চিকিৎসকের লিখিত পরামর্শ থাকলে ভিন্ন কথা। রূপচর্চা বা নান্দনিক কারণে করানো কসমেটিক সার্জারি, ওজন কমানোর অপারেশন, ট্যাটু অপসারণ কিংবা নেক লিফট সার্জারির মতো ব্যয়বহুল আধুনিক চিকিৎসাগুলো সম্পূর্ণভাবে এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া, বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি আইভিএফ (IVF) এবং দাঁতের রুটিন চেকআপ, ক্যাভিটি ফিলিং বা দাঁত পরিষ্কার করার মতো সাধারণ ডেন্টাল চিকিৎসায় এই কার্ড কার্যকর হবে না। তবে কোনো দুর্ঘটনা বা টিউমারের কারণে চোয়ালে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় মিলতে পারে।

সুবিধাভোগী নির্ধারণের কঠোর শর্ত

আয়ুষ্মান ভারত যোজনা মূলত দেশের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং অসহায় মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু আইনি ও অর্থনৈতিক শর্তাবলি। সমাজের সব স্তরের মানুষ এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

সরকারি চাকুরে, নিয়মিত আয়কর প্রদানকারী ব্যক্তি এবং সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত যেসব কর্মীর প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) জমা হয়, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে যাঁরা ইতিমধ্যেই ইএসআইসি (ESIC) বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা ভোগ করছেন, তাঁরাও আয়ুষ্মান কার্ডের আওতাভুক্ত হওয়ার যোগ্য নন। ফলে রাজ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিতকরণ এবং কার্ডের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন, যাতে চিকিৎসার জরুরি মুহূর্তে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিতে পড়তে না হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *