মমতার ডাকে ‘ডিলিট’ টলিউড! কালীঘাটের বৈঠকে গরহাজির রাজ-সায়ন্তিকা-সোহম

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে শুক্রবার কালীঘাটের বাসভবনে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দলের সর্বোচ্চ নেত্রীর সেই গুরুত্বপূর্ণ ডাকে সাড়া দিলেন না একঝাঁক তারকা প্রার্থী। বরানগরের সদ্য প্রাক্তন বিধায়িকা তথা অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্যারাকপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এবং করিমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে শুক্রবারের এই পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দিতে দেখা যায়নি। হারের পর এভাবে প্রথম সারির তারকা প্রার্থীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
ভোট বিপর্যয়ের কারণ খোঁজার চেষ্টা
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে দলের আশানুরূপ ফল না হওয়া এবং বিদায়ী বিধায়কদের অনেকের পরাজয়ের নেপথ্যে কী কী সাংগঠনিক খামতি ছিল, তা সরাসরি প্রার্থীদের মুখ থেকে শুনতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বিশেষ করে যে সমস্ত তারকা প্রার্থীদের ওপর দল ভরসা রেখেছিল, তাদের হারের কারণ বিশ্লেষণ করা নেত্রীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। কিন্তু খোদ সায়ন্তিকা, রাজ বা সোহমের মতো পরিচিত মুখেরা বৈঠকে অনুপস্থিত থাকায় দলের অন্দরে পরাজয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও ক্ষোভ প্রশমনের প্রক্রিয়াটি ধাক্কা খেয়েছে।
সাংগঠনিক সমন্বয় ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের কঠিন সময়ে শীর্ষ নেতৃত্বের ডাকা বৈঠকে তারকা প্রার্থীদের এই গরহাজির থাকার ঘটনাটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাবকে স্পষ্ট করছে। নির্বাচনের টিকিট পাওয়া থেকে শুরু করে প্রচারের ময়দান—সবক্ষেত্রেই যারা দলের অগ্রাধিকার পেয়েছিলেন, হারের পর তাদের এই দূরত্ব তৈরি করা নিচুতলার কর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে দিতে পারে। একই সঙ্গে, দলের আগামী দিনের রূপরেখা নির্ধারণে এবং এই কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় জনসংযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই উদাসীনতা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।