৪৫ লাখ কোটি টাকার মেগা ডিল, ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করল ভারতীয় বায়ুসেনা!

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সীমান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট (MRFA) প্রকল্পের জন্য ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল’ (RFP) বা টেন্ডারের প্রাথমিক নথিপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই মেগা চুক্তির আনুষ্ঠানিক টেন্ডার জারি করা হবে। ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ অভিযানের ক্ষেত্রে এই চুক্তিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আনুমানিক ৪০ আরব ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩.৩ লাখ কোটি টাকা) মূল্যের এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে তা ভারতীয় বায়ুসেনার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
২৩টি সরাসরি ফ্রান্স থেকে, ৯২টি তৈরি হবে ভারতে
প্রস্তাবিত এই মেগা চুক্তির কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে ২২টি বিমান সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় সরাসরি ফ্রান্স থেকে উড়ে ভারতে আসবে। এর ফলে স্কোয়াড্রন ঘাটতিতে থাকা বায়ুসেনার জরুরি প্রয়োজন দ্রুত মেটানো সম্ভব হবে। চুক্তির বাকি ৯২টি যুদ্ধবিমান ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে ভারতেই তৈরি করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে এবং বিমান তৈরিতে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বায়ুসেনা প্রধানের আসন্ন ফ্রান্স সফরের আগেই এই খসড়া চূড়ান্ত হওয়া চুক্তির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্কোয়াড্রন সংকট মেটানো ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র অগ্রগতি
বর্তমানে চিন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতীয় বায়ুসেনা দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রন ঘাটতিতে ভুগছে। আগে থেকেই বহরে ৩৬টি রাফাল থাকায় এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং পাইলটদের প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো ভারতেই প্রস্তুত রয়েছে, যা এই বিমানকে প্রথম পছন্দে পরিণত করেছে। নতুন চুক্তিটি সম্পন্ন হলে ২০২৯ বা ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্রান্স থেকে সরাসরি প্রথম দফার বিমান সরবরাহ শুরু হতে পারে। ভারতেই ৯২টি বিমান তৈরির সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অভ্যন্তরে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে। সার্বিকভাবে এই প্রকল্প ভারতের আকাশসীমায় কৌশলগত আধিপত্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশটিকে একটি গ্লোবাল ডিফেন্স হাবে পরিণত করতে সাহায্য করবে।