১ জুন থেকে বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত! কার্ড থাকলেও এই ৪ খরচে দিতে হবে পকেট থেকে, ফাঁদে পড়ার আগে সাবধান!

১ জুন থেকে বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত! কার্ড থাকলেও এই ৪ খরচে দিতে হবে পকেট থেকে, ফাঁদে পড়ার আগে সাবধান!

আগামী ১ জুন, ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকারের মেগা স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (PM-JAY)। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের লক্ষ লক্ষ যোগ্য পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস অর্থাৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। তবে কার্ড হাতে পেলেই হাসপাতালের সমস্ত খরচ বিনামূল্যে মিলবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিল কাউন্টারে গিয়ে সাধারণ মানুষকে যাতে বড় কোনো আর্থিক বিপাকে পড়তে না হয়, তার জন্য এই বিমা প্রকল্পের আওতা-বহির্ভূত বিষয়গুলো স্পষ্ট জানা প্রয়োজন।

মূলত লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সমস্যা, রুটিন চেকআপ এবং নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসার ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান ভারত কঠোর নিয়ম মেনে চলে। এই প্রকল্পের রূপরেখা অনুযায়ী, মূলত ৪টি বড় খাতের খরচ কোনোভাবেই এই কার্ডের মাধ্যমে মেটানো সম্ভব নয়, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই দিতে হবে।

যে ৪টি খরচ মিলবে না এই প্রকল্পে

প্রথমত, হাসপাতালের আউটডোর বা ওপিডি (OPD) সংক্রান্ত কোনো খরচ এই কার্ডের আওতায় আসবে না। কোনো রোগী যদি হাসপাতালে অন্তত এক রাত ভর্তি (In-patient) না থাকেন, তবে তাঁর সাধারণ রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে বা প্যাথলজি টেস্টের খরচও নিজেকে বহন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শরীর দুর্বলতা কাটানোর সাধারণ ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, টনিক বা হেলথ সাপ্লিমেন্টের খরচ এই বিমা দেবে না; যদি না কোনো বড় দুর্ঘটনা বা জটিল রোগের চিকিৎসায় হাসপাতালের ডাক্তার এটিকে বাধ্যতামূলক হিসেবে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করেন।

তৃতীয়ত, দাঁতের সাধারণ চিকিৎসা যেমন রুট ক্যানেল, ফিলিং বা স্কেলিংয়ের খরচ সম্পূর্ণ এই কার্ডের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে সড়ক দুর্ঘটনা বা চোয়ালের গুরুতর আঘাতের কারণে ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারির প্রয়োজন হলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। চতুর্থত, বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ বা আইভিএফ (IVF) চিকিৎসা এবং মেদ কমানোর অপারেশন (Bariatric Surgery), প্লাস্টিক সার্জারি বা কসমেটিক সার্জারির মতো সৌন্দর্য বর্ধনকারী সমস্ত চিকিৎসার খরচ ১০০ শতাংশ এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে।

কারা পাবেন না এই সুবিধা এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে একটি সুরক্ষাকবচ দেওয়া। এই আর্থিক কাঠামোর কারণে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষকে এই কার্ডের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী, বার্ষিক আয়কর (Income Tax) দাতা পরিবার, সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত পিএফ (PF/EPF) ভুক্ত চাকরিজীবী এবং ইএসআইসি (ESIC) চিকিৎসার আওতাধীন ব্যক্তিরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন না।

বাংলায় এই মেগা প্রকল্প চালুর ফলে একদিকে যেমন রাজ্যের লাখ লাখ গরিব মানুষ উন্নত ও জটিল চিকিৎসার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে নিয়ম ও যোগ্যতার শর্তগুলো সঠিকভাবে না জানার কারণে শুরুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *