‘যেতে চাইলে যান, মাথা নত করবে না তৃণমূল!’ মসনদ খুইয়েও কালীঘাটে মমতার ‘অগ্নিবাণ’

‘যেতে চাইলে যান, মাথা নত করবে না তৃণমূল!’ মসনদ খুইয়েও কালীঘাটে মমতার ‘অগ্নিবাণ’

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কালীঘাটে নিজের বাসভবনে দলের পরাজিত প্রার্থী ও শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে একটি জরুরি পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন তিনি। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠন করার পর, এটাই ছিল তৃণমূলের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন তৃণমূল নেত্রী।

দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা দল ছাড়তে চান, তাঁরা চলে যেতে পারেন এবং তাঁরা সম্পূর্ণ স্বাধীন। কারও জন্য তৃণমূলের কাজ আটকে থাকবে না। এই শোচনীয় পরাজয় সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস আবার ঘুরে দাঁড়াবে এবং তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নতুন করে দল পুনর্গঠন করবেন। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে মূলত দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি কর্মীদের ভাঙচুর হওয়া দলীয় কার্যালয়গুলো মেরামত করে নতুন করে খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনে নিজে গিয়েও রং করার কথা বলেন। একই সঙ্গে এই পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে না নিয়ে জনগণের রায় ‘চুরি’ করা হয়েছে বলেও বৈঠকে অভিযোগ তোলেন তিনি।

বিপর্যয়ের আবহে সংগঠন ধরে রাখার কৌশল

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এক নাটকীয় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে মাত্র ৮০-তে এসে ঠেকেছে। এমনকি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর নিজস্ব কেন্দ্র ভবানীপুরে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছেই হারতে হয়েছিল তাঁকে। এই ব্যাপক ভরাডুবির পর দলের অন্দরে যাতে নতুন করে কোনো ভাঙন না ধরে এবং কর্মীদের আত্মবিশ্বাস যাতে বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যেই প্রথম বৈঠক থেকে এমন কৌশলী অবস্থান নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লড়াই জারি রাখার বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই বৈঠক প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ से আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, অকল্পনীয় অত্যাচার और ক্রমাগত হুমকির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও দলের প্রার্থীরা যে অতুলনীয় সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছেন, তার জন্য দল সব সময় তাঁদের পাশে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী দলবদল করতে পারেন, এমন গুঞ্জনের মাঝেই মমতার এই ‘আগুনে হুঙ্কার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলত্যাগীদের আটকানোর চেষ্টা না করে বরং নতুনদের নিয়ে নতুন করে দল গড়ার এই বার্তা আসলে কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যেগ জোগানোর কৌশল। এর ফলে আগামী দিনে রাজ্যে বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কতটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে এবং বিজেপির নতুন সরকারের বিরুদ্ধে কীভাবে আন্দোলনে নামে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *