উন্মত্ত জনতার তাণ্ডব আসানসোলে! পুলিশ ফাঁড়িতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইটবৃষ্টি, রণক্ষেত্র জাহাঙ্গির মহল্লা

শুক্রবার গভীর রাতে আসানসোলের জাহাঙ্গির মহল্লা এলাকায় এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আসানসোল উত্তর থানার অন্তর্গত জাহাঙ্গির মহল্লা পুলিশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে আচমকা ঝাঁকে ঝাঁকে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করে একদল উন্মত্ত যুবক। শতাধিক মানুষের এই অতর্কিত হামলায় পুলিশ ফাঁড়িটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে।
ফাঁড়ি ছেড়ে পালালেন পুলিশকর্মীরা, চলল ব্যাপক ভাঙচুর
স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আচমকা শতাধিক যুবক ফাঁড়িটি ঘেরাও করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশো মানুষ একজোট হয়ে ফাঁড়ি লক্ষ্য করে লাগাতার ইটবৃষ্টি শুরু করে। ফাঁড়িতে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সংখ্যা কম থাকায়, তারা প্রথম দিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং প্রাণভ্যায়ে ফাঁড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপরই উত্তেজিত জনতা ফাঁড়ির ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। ভেতরের চেয়ার, টেবিল, কম্পিউটার, টেলিভিশন, কাচের দরজা, আসবাবপত্র এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়। শুধু ফাঁড়িই নয়, সংলগ্ন এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক গাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
ঘটনার খবর পেয়েই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি পিভি সতীশের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গোটা এলাকায় থমথমে ভাব এবং চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঠিক কী কারণে এই আকস্মিক হামলা, তা এখনও স্পষ্ট না হলেও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস ও পুলিশের ওপর এই আক্রমণের ঘটনা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার ওপর বড়সড় আঘাত হেনেছে। এই ঘটনার জেরে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক হারে জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।