‘অন্যায় করলে ছাড় নেই, হতে পারে গ্রেপ্তারও’, অভিষেকের বিরুদ্ধে FIR হতেই সুর চড়ালেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু

আরজি কর কাণ্ডে তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশনের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহল উত্তপ্ত। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। এই আবহে আরও একধাপ এগিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। শনিবার বর্ধমানের কালনাগেটে দলীয় কর্মীদের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, অন্যায় করে থাকলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না, তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনে গ্রেপ্তারও করা হতে পারে।
দুর্নীতি ও বেআইনি নির্মাণে বুলডোজার চালানোর হুঁশিয়ারি
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী রাজ্যের একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যুতে সরকারের কড়া অবস্থানের কথা জানান। বিশেষ করে অবৈধ মাদ্রাসা এবং সরকারি জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাটের মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দেন তিনি। মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, সমস্ত অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধ করার পাশাপাশি সরকারি জমি ও চার্চের জায়গা দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনে বুলডোজার চালানো হবে। একই সঙ্গে ২০১১ সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া তফশিলি জাতি (এসসি) ও উপজাতি (এসটি) সার্টিফিকেটের সত্যতা যাচাইয়ে সিআইডি তদন্তের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, ভুয়ো শংসাপত্র নিয়ে যারা চাকরি বা পড়াশোনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উত্তপ্ত রাজনীতির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরজি কর কাণ্ডের রেশ এবং অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পর রাজ্যের বর্তমান শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর এই মন্তব্য মূলত রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের ধাঁচে কড়া প্রশাসনিক মডেল কার্যকর করার রাজনৈতিক ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ। নিজের দপ্তরকে ‘ঘুঘুর বাসা’ বলে উল্লেখ করে তা সাফ করার যে বার্তা মন্ত্রী দিয়েছেন, তার প্রভাবে আগামী দিনে বেআইনি নির্মাণ উচ্ছেদ এবং ভুয়ো শংসাপত্র মামলায় বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল ও আইনি তৎপরতা দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা রাজ্যের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।