অমিত শাহকে হুমকির অভিযোগে আইনি বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু

অমিত শাহকে হুমকির অভিযোগে আইনি বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়েরকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক মন্তব্য ও হুমকির অভিযোগে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী তথা সমাজকর্মী রাজীব সরকার ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদের গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন। প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ এই মামলা রুজু করেছে।

রাজনৈতিক ভাষাতেও ‘গুন্ডার ছোঁয়া’! অভিযোগের নেপথ্য কারণ

অভিযোগকারী রাজীব সরকারের দাবি, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ‘দেখে নেব’ বলে প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিলেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন অসাংবিধানিক মন্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাঁর মতে, এটি কোনো সুস্থ রাজনৈতিক ভাষা হতে পারে না, বরং এটি ‘গুন্ডার ভাষা’। এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সমাজে উস্কানি ছড়াতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই তিনি প্রমাণসহ সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার জল কতদূর গড়ায় তা আদালতে প্রকাশ করা হবে জানিয়ে এর পেছনে বড়সড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাব

অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মোট ৫টি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর তিনটি ধারা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের দুটি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি ধারা জামিন অযোগ্য (Non-bailable)। ফলে তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার আইনি জটিলতা ও অস্বস্তি যে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

এই ঘটনার জেরে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে যেখানে বিজেপি সহ বিরোধী শিবির এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে আইন শৃঙ্খলার প্রশ্নে সুর চড়াচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হওয়ার কারণে আগামী দিনগুলিতে রাজ্য রাজনীতিতে এর গভীর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *