মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে আল কায়দার নামে খুনের হুমকি, গার্ডেনরিচ থেকে ধৃত যুবকের স্বীকারোক্তিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে আল কায়দার নামে খুনের হুমকি, গার্ডেনরিচ থেকে ধৃত যুবকের স্বীকারোক্তিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আত্মঘাতী বোমা হামলায় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। আল কায়দার নাম ব্যবহার করে ভবানীপুর থানায় এই হুমকি ইমেল পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে গার্ডেনরিচ এলাকা থেকে হাসনেন আলি নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

তদন্তে এসটিএফ ও হুমকির নেপথ্য কারণ

গত বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ ভবানীপুর থানায় একটি ইমেল আসে, যেখানে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ‘সুইসাইড বম্ব অ্যাটাক’ বা ফিদায়েঁ হামলার ছক কষা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, ইমেলটি এক মহিলার নাম থেকে পাঠানো হয়েছিল এবং তাতে নিজেকে জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার সদস্য বলে দাবি করা হয়েছিল। এমন স্পর্শকাতর বার্তা পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শুক্রবার রাতে গার্ডেনরিচে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে মূল অভিযুক্ত হাসনেন আলিকে পাকড়াও করে এসটিএফ।

পুলিশি জেরায় ধৃত যুবক আল কায়দার নাম করে হুমকি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এর পেছনে কোনো জঙ্গি যোগসূত্র মেলেনি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এক মহিলাকে চরম বিপাকে ফেলতেই এই ষড়যন্ত্র বুনেছিলেন হাসনেন। ওই মহিলাকে পুলিশি ঝামেলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তাঁর ইমেল আইডি ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে এই ভুয়া জঙ্গি হামলার হুমকি পাঠানো হয়।

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য প্রভাব

ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এই কাণ্ড ঘটানো হলেও, রাজ্যের খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং জঙ্গি সংগঠনের নাম জড়িয়ে এমন হুমকি আসায় প্রশাসনিক স্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনা রাজ্য পুলিশের সাইবার নজরদারি এবং ভিআইপি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি আরোপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কার্যকালের শুরুতেই এই ধরণের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংবেদনশীলতাকে আরও বাড়িয়ে দিল। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *