গতি ফিরছে থমকে থাকা ৩ মেগা প্রকল্পে, যানজট থেকে মুক্তির আশায় কলকাতা

গতি ফিরছে থমকে থাকা ৩ মেগা প্রকল্পে, যানজট থেকে মুক্তির আশায় কলকাতা

কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দিতে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে। রাজ্যে সরকার বদলের পর দীর্ঘদিন ধরে ফাইলের তলায় চাপা পড়ে থাকা কলকাতার ৩টি মেগা পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA)। নতুন নগরোন্নয়ন দপ্তরের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছেন আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই দপ্তরের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখায় প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে।

ইএম বাইপাস থেকে নিউ টাউন সংযোগ

কলকাতার যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সবচেয়ে বড় উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে ইএম বাইপাস ও আইটি হাব সেক্টর ৫ এবং নিউ টাউনের মধ্যে যোগাযোগ সুগম করতে। প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে মেট্রোপলিটন মোড় থেকে মহিষবাথান পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের একটি উড়ালসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। চিংড়িঘাটা মোড় থেকে বাঁক নিয়ে সল্টলেক বাইপাস ও সেক্টর ৫-এর রিং রোডের ওপর দিয়ে যাবে এই সেতু। এছাড়া নলবান ও কলেজ মোড়সহ বিভিন্ন অংশে ওঠানামার জন্য র‍্যাম্পসহ এর মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৭ কিলোমিটার। পূর্ব কলকাতা জলাভূমি এলাকার ওপর দিয়ে এই সেতুর কিছু অংশ যাওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের অনুমোদন এবং লার্সেন অ্যান্ড টুব্রোর মতো সংস্থার দরপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও স্রেফ তহবিলের অভাবে প্রকল্পটি থমকে ছিল।

রুবি মোড়ে স্কাইওয়াক ও সমান্তরাল সেতু

পথচারী ও মেট্রো যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইএম বাইপাসের অন্যতম ব্যস্ত রুবি মোড়ে একটি আধুনিক স্কাইওয়াক তৈরির প্রস্তাব ফের আলোচনার টেবিলে এসেছে। প্রায় ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বৃত্তাকার স্কাইওয়াকটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় মেট্রো স্টেশনের কনকোর্সের সমান উচ্চতায় তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে যাত্রীরা রাস্তা না পেরিয়েই আনন্দপুর বা গড়িয়াহাটমুখী অংশে যাতায়াত করতে পারেন। এর জন্য ৪টি র‍্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা ও পুলিশি ছাড়পত্র ২০২১ সালেই সম্পন্ন হয়েছিল।

অন্যদিকে, যাদবপুরের জীবনানন্দ সেতুর দীর্ঘদিনের যানজট কাটাতে বর্তমান দুই লেনের সেতুর পাশেই আরও একটি ৬০০ মিটার দীর্ঘ সমান্তরাল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মূলত বিগত দিনে পর্যাপ্ত আর্থিক তহবিলের অভাব এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো ফাইলবন্দি হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর এই মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে কলকাতার ট্রাফিক চিত্রে এক বৈপ্লবিক বদল আসবে। বাইপাস থেকে সল্টলেক ও নিউ টাউনের যাতায়াতের সময় একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপাশি রুবি ও যাদবপুরের মতো ব্যস্ততম মোড়গুলো যানজটমুক্ত হওয়ার ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে, যা মহানগরের অর্থনৈতিক গতিশীলতাকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *