সঠিক কৌশলেই মিউচুয়াল ফান্ডে মিলবে বাম্পার রিটার্ন, জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের ৫টি সহজ পরামর্শ

বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয় ও সম্পদ বৃদ্ধির অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে মিউচুয়াল ফান্ডের ‘সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ বা সিপ (SIP)। তবে নিয়মিত বিনিয়োগ করার পরও অনেকের পোর্টফোলিওতেই কাঙ্ক্ষিত মুনাফা দেখা যায় না। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক রণকৌশল বা স্ট্র্যাটেজির অভাবই এর প্রধান কারণ। কিছু সহজ অথচ কার্যকরী নিয়ম মেনে চললেই এই বিনিয়োগ থেকে দীর্ঘমেয়াদে বিপুল মুনাফা বা বাম্পার রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।
কমিশন এড়াতে ডিরেক্ট প্ল্যান ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ
মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সময় ‘রেগুলার প্ল্যান’ বেছে নিলে তার একটি বড় অংশ ডিস্ট্রিবিউশন কমিশন হিসেবে কাটা যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কের মুনাফায় ঘাটতি তৈরি করে। তাই অধিক প্রফিট মার্জিনের জন্য ‘ডিরেক্ট প্ল্যান’ নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ। এর পাশাপাশি, শেয়ার বাজারের ওঠানামায় আতঙ্কিত না হয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ ধরে রাখা জরুরি। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মিউচুয়াল ফান্ড দ্রুত বড়লোক হওয়ার জায়গা নয়, বরং ধৈর্য ধরে দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ সৃষ্টির সঠিক হাতিয়ার।
নিয়মিত টপ-আপ এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুফল
অনেকেই বাজারের মন্দাভাব দেখে বা সাময়িক আর্থিক সংকটে সিপ (SIP) সাময়িকভাবে বন্ধ বা স্কিপ করে দেন, যা বিনিয়োগের চক্রবৃদ্ধি হারের (Compounding) সুবিধাকে ব্যাহত করে। বাজারে উত্থান-পতন যাই থাকুক না কেন, বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে গড় ক্রয়ের সুবিধা (Rupee Cost Averaging) পাওয়া যায়। এছাড়া, উৎসবের বোনাস বা অন্য কোনো উপায়ে হাতে অতিরিক্ত টাকা এলে তা অপচয় না করে সিপ-এ ‘টপ-আপ’ বা অতিরিক্ত বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতের তহবিল আরও মজবুত হয়।
প্রতি বছর বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা
অধিকাংশ বিনিয়োগকারী বছরের পর বছর একই অঙ্কের টাকা সিপ করে যান, যা একটি বড় ভুল। সময়ের সাথে সাথে আয় বৃদ্ধির পরিপূরক হিসেবে প্রতি বছর অন্তত ১০ শতাংশ হারে সিপ-এর পরিমাণ বাড়ানো উচিত (Step-up SIP)। এই সামান্য পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীর চূড়ান্ত রিটার্ন বা প্রফিট হু হু করে বাড়িয়ে দিতে মূল ভূমিকা পালন করে। স্ট্র্যাটেজির এই সাধারণ ভুলগুলো সংশোধন করে নিয়মমাফিক বিনিয়োগ করলেই মিলবে প্রত্যাশিত আর্থিক সাফল্য।