বড়সড় সংস্কারের পথে সিবিএসই, নবম ও দশম শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে দুটি ভারতীয় ভাষা

স্কুল শিক্ষায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। জাতীয় শিক্ষানীতি ও ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নবম ও দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য নতুন ‘ভাষা নীতি’ ঘোষণা করেছে বোর্ড। আগামী ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হতে চলেছে এই নতুন নিয়ম। বোর্ডের জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম ও দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত দুটি অবশ্যই ভারতীয় ভাষা হতে হবে। এর ফলে যদি কোনো পড়ুয়া বিদেশি ভাষা পড়তে চায়, তবে তা কেবল তৃতীয় ভাষা হিসেবে বেছে নেওয়া যাবে এবং বাকি দুটি ভাষা ভারতীয় হওয়া আবশ্যিক।
সিদ্ধান্তের কারণ ও বোর্ডের প্রস্তুতি
সিবিএসই জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এনসিইআরটি-র নতুন সিলেবাস পর্যালোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষ এপ্রিল মাস থেকে শুরু হয়ে গেলেও একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর গুরুত্ব বাড়ানো। নতুন এই নিয়ম কার্যকর করতে স্কুলগুলির সুবিধার্থে ১৯টি ভারতীয় তফশিলি ভাষার বই ১ জুলাইয়ের আগে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের বাইরেও স্থানীয় বা রাজ্যের জনপ্রিয় কবিতা, ছোটগল্প এবং উপন্যাসকে পঠনপাঠনের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক সংকট দূরীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নতুন ভাষা নীতি বাস্তবায়নে স্কুলগুলোতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে বোর্ড। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ভাষা শিক্ষক না থাকলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, পার্শ্ববর্তী স্কুলের সঙ্গে রিসোর্স শেয়ারিং কিংবা উচ্চশিক্ষিত স্নাতকদের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা যাবে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সিবিএসই-র এই পদক্ষেপের ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে ভারতীয় ভাষার প্রতি আগ্রহ ও ভাষাগত দক্ষতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। তবে শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে এই বদল কার্যকর করার কারণে স্কুল ও পড়ুয়াদের প্রাথমিক স্তরে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সাপ্লিমেন্টারি মেটেরিয়াল ব্যবহারের বিস্তারিত গাইডলাইন আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রকাশ করবে বোর্ড।