ভোট মিটতেই পেট্রল ও ডিজেলে আগুন, রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় পকেটে টান আমজনতার!

নির্বাচন মিটতেই সাধারণ মানুষের আশঙ্কা সত্যি করে দেশজুড়ে একধাক্কায় বাড়ল জ্বালানির দাম। ভোটের আবহ কাটতে না কাটতেই প্রথমে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর এবার শুক্রবার থেকে লিটারপ্রতি তিন টাকা করে মহার্ঘ হলো পেট্রল এবং ডিজেল। একই সাথে প্রতি কেজি সিএনজির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে তিন টাকা। একের পর এক জ্বালানির এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের পকেটে বড়সড় কোপ বসাতে চলেছে। রান্নার গ্যাসের পর পরিবহণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার কারণে আমজনতার নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যেখানে বিরোধী পক্ষ একে ‘ভোটের খরচের বিল’ বলে তোপ দেগেছে।
পণ্য পরিবহণ ও কোল্ড স্টোরেজের খরচ বৃদ্ধি
পেট্রল ও ডিজেলের এই দাম বৃদ্ধির সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের খাদ্য বাজারে। ভারতে খাদ্যদ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ডিজেলচালিত ট্রাকের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহণ খরচ একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে, যার জেরে বাজারে চাল, ডাল, ফল ও সবজির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি, কৃষিজ পণ্য মজুত রাখার জন্য ব্যবহৃত কোল্ড স্টোরেজ বা হিমঘরগুলির জেনারেটর চলে ডিজেলে। জ্বালানির দাম বাড়ায় হিমঘরের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে আলু, পেঁয়াজ, আদা, বেগুন কিংবা বাঁধাকপির মতো নিত্যদিনের সবজির দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। এমনকি চাষের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির খরচ বাড়ায় কৃষকদের পক্ষে চাষাবাদ চালানো কঠিন হবে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে বড় সংকট তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি আমুল ও মাদার ডেয়ারির মতো সংস্থা দুধের দাম বাড়ালেও, পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির কারণে আগামী দিনে দুধ, দুগ্ধজাত পদার্থ ও মাছের দাম আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।
যাতায়াত ও কর্মসংস্থানে বড় ধাক্কা
জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে শুধু রান্নাঘর নয়, আমজনতার দৈনিক যাতায়াতের খরচও একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে। বাস, ট্যাক্সি ও অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি কলকাতায় সিএনজির দাম বাড়ায় অটোর ভাড়াও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এর বাইরে, বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম সিলিন্ডারপিছু ৯৯৩ টাকা বাড়ায় হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে।
ই-কমার্স ও অনলাইন খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও তাদের ডেলিভারি চার্জ এবং প্ল্যাটফর্ম ফি বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে। পরিবহণ ও আনুষঙ্গিক খরচ সামলাতে না পেরে ই-কমার্স ও হোটেল শিল্পের ছোট ব্যবসাগুলি বন্ধ হতে পারে, যার ফলে ডেলিভারি বয় এবং হোটেল কর্মীদের কাজ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, আগামী দিনে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।