জ্বালানি সংকটের মাঝেই ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানি শুল্ক কমাল কেন্দ্র

জ্বালানি সংকটের মাঝেই ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানি শুল্ক কমাল কেন্দ্র

দেশে তীব্র পেট্রোলিয়াম সংকটের মাঝেই আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল এবং বিমান জ্বালানির (এটিএফ) রপ্তানি শুল্ক এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দিল কেন্দ্র। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে পেট্রলের রপ্তানি শুল্ক। শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া অর্থ মন্ত্রকের এই নতুন নির্দেশিকা ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন জ্বালানি সংকট নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে, তখন রপ্তানি শুল্ক হ্রাসের এই সিদ্ধান্ত নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

শুল্কের নতুন বিন্যাস

অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিজেলে রপ্তানির ক্ষেত্রে লিটারপ্রতি শুল্ক ২৩ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬.৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে বিমান জ্বালানির ওপর রপ্তানি শুল্ক লিটারপিছু ৩৩ টাকা থেকে এক ধাক্কায় কমিয়ে ১৬ টাকা করা হয়েছে। তবে উল্টো পথ হেঁটে পেট্রলের ওপর রপ্তানি শুল্ক লিটারপ্রতি ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে পেট্রলে নতুন রপ্তানি শুল্ক দাঁড়িয়েছে ১৬.৫ টাকা। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র জ্বালানি সংকটের আবহেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে এই বড় বদল আনা হলো।

অভ্যন্তরীণ সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব

দেশীয় বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের ঘাটতি মেটাতে যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, সেখানে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানি শুল্ক কমানোর ফলে দেশীয় মজুত আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুল্ক কমায় ভারতের তেল শোধনাগারগুলি অভ্যন্তরীণ বাজারের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠাতে বেশি উৎসাহিত হতে পারে। এর ফলে দেশের বাজারে ডিজেলের জোগান আরও হ্রাস পাওয়ার এবং পরোক্ষভাবে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সরকারি সূত্রের দাবি, লাগাতার আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ধুঁকতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতেই এই স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *