চিন সফর শেষেই কি ইরানে বিধ্বংসী হামলার ছক কষছেন ট্রাম্প!

চিন সফর শেষেই কি ইরানে বিধ্বংসী হামলার ছক কষছেন ট্রাম্প!

দুই দিনের হাইপ্রোফাইল চিন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরেই ফের রণংদেহী মেজাজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্তের আশা করা হলেও, বাস্তবে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্রনাট্য তৈরি হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, বেজিংয়ের মধ্যস্থতায় হয়তো শান্তি ফিরবে মধ্যপ্রাচ্যে। কিন্তু সেই জল্পনায় জল ঢেলে চিন থেকে ফিরেই ইরানের ওপর নতুন করে এক বিধ্বংসী হামলার পরিকল্পনা শুরু করেছে হোয়াইট হাউস, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়াচ্ছে।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০’ এবং ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

চিন সফরে যাওয়ার আগেই ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হয় ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে চুক্তিতে আসতে হবে, না হলে ইরান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। গত ৭ এপ্রিল থেকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চললেও পর্দার আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতি থামেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন এবার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০’ নামের এক বিশাল সামরিক অভিযানের নীলনকশা তৈরি করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং আমেরিকার কাছে হামলার সব পরিকল্পনা তৈরি আছে। আগামী সপ্তাহেই ইরানকে লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে এই হামলা চালাতে পারে বলে সূত্রের খবর।

হামলার লক্ষ্য ও সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের সম্ভাব্য হামলায় ইরানের মূল সামরিক ঘাঁটিগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে বিশেষ সেনা অভিযান চালানো হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতি সচল রাখার প্রধান উৎস খর্গ দ্বীপের তেল রপ্তানি কেন্দ্রটি কবজা করার পরিকল্পনাও রয়েছে ওয়াশিংটনের। এই যুদ্ধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি বাজারে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হলে বিশ্বজুড়ে তেলের তীব্র সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে।

এদিকে মার্কিন হুমকির মুখে হাত গুটিয়ে বসে নেই ইরানও। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে এবং মার্কিন-ইজরায়েলি আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তাদের সেনা ও সামরিক কমান্ড সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক মহাসঙ্কটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *