ইজরায়েলের বিমান হানায় খতম হামাসের সেনাপ্রধান হাদ্দাদ, যুদ্ধবিরতির মাঝেও জ্বলছে গাজা

আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ থামলেও প্যালেস্টাইনের গাজা ভূখণ্ডে শান্তি ফেরেনি। এবার ইজরায়েলি সেনার এক বিশেষ অভিযানে নিহত হলেন হামাসের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ইজ আল দিন আল হাদ্দাদ। গত শুক্রবার গাজা সিটির একটি অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) এবং হামাস—উভয় পক্ষই এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল মৃত্যুর পর নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজার পরিস্থিতি।
টুইস্ট ও হিট লিস্টের নেপথ্যে
ইজরায়েল সেনার দাবি, দীর্ঘ দিন ধরেই তাদের হিট লিস্টের শীর্ষে ছিল এই হামাস সেনাপ্রধান। মূলত গত ৭ অক্টোবরের রক্তক্ষয়ী হামলার মাস্টারমাইন্ড বা অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী ছিল এই হাদ্দাদ। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু হামলার পরিকল্পনাই নয়, যুদ্ধ চলাকালীন বহু ইজরায়েলি পণবন্দীকে নিজের হেফাজতে রেখে তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করত সে। নিজের প্রাণ বাঁচাতে গাজা সিটির একটি আবাসনকে আস্তানা বানিয়েছিল এই জঙ্গি নেতা। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না।
জনরোষ ও গাজার বর্তমান পরিস্থিতি
সেনাপ্রধানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ইজরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গাজার সাধারণ মানুষ। শনিবার হাদ্দাদের শেষকৃত্যে হাজার হাজার নাগরিকের ভিড় উপচে পড়ে, যার মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিশুও ছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১১ অক্টোবর দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হলেও গাজায় সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করেনি তেল আবিব। সংঘর্ষবিরতির পর থেকে চালানো ধারাবাহিক অভিযানে গাজায় এখনও পর্যন্ত ৮৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ। সেনাপ্রধানের এই মৃত্যুর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে উত্তেজনা ও হিংসার আগুন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।