ডিজিটাল প্রমাণ পেলেই সোজা হাজত, কাটমানি রুখতে শুভেন্দুর কড়া দাওয়াই

পশ্চিমবঙ্গে ‘কাটমানি’ কালচারের অবসান ঘটাতে এবার বেনজির হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের থেকে বেআইনিভাবে টাকা নেওয়ার দিন শেষ হতে চলেছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। শনিবার ডায়মন্ড হারবারে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিক মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, কাটমানি বা তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান রাজ্যে দুর্নীতি দমনে একটি বড়সড় ঝাঁকুনি দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ডিজিটাল লেনদেনের প্রমাণেই গ্রেফতার
এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের আবাসন কিংবা স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো কোনো স্কিম পেতে গিয়ে যদি কাউকে কাটমানি দিতে হয়, তবে আর পার পাওয়া যাবে না। দুর্নীতিবাজদের বাগে আনতে এবার আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে প্রশাসন। ডিজিটাল ডকুমেন্ট হিসেবে যদি কেউ পেটিএম (Paytm) ট্রানজাকশন বা সরাসরি অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফারের প্রমাণ দেখাতে পারেন, তবে কোনো রকম টালবাহানা ছাড়াই অভিযুক্তকে সরাসরি গ্রেফতার করা হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী এই ডিজিটাল নথিগুলোকে সম্পূর্ণ বৈধ প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেই পুলিশ পদক্ষেপ করবে।
মিথ্যা অভিযোগে আইনি হুঁশিয়ারি ও তোলাবাজি বন্ধের নির্দেশ
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি কোনো নাগরিক যাতে এই নিয়মের অপব্যবহার করতে না পারেন, সেই বিষয়েও সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিজিটাল প্রমাণ না থাকলেও অভিযোগ নথিভুক্ত করা যাবে এবং পুলিশ গুরুত্ব সহকারে তার তদন্ত করবে। তদন্তে অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে হেনস্থা করার জন্য বারবার মিথ্যা অভিযোগ জমা দিলে, অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও পাল্টা কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে আমজনতার দুর্ভোগ কমাতে রাস্তাঘাটে অটো কিংবা টোটো থেকে যেকোনো ধরণের অবৈধ তোলাবাজি অবিলম্বে সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।