টোটো স্ট্যান্ডে তোলাবাজির দাপট, মালদায় পুলিশের জালে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা

টোটো স্ট্যান্ডে তোলাবাজির দাপট, মালদায় পুলিশের জালে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জেলা স্তরে তোলাবাজি ও জুলুমবাজির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় অ্যাকশন নিল পুলিশ প্রশাসন। মালদার কালিয়াচকে টোটো চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা তোলার অভিযোগে সাদ্দাম শেখ নামের এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে ধৃত এই তৃণমূল নেতাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।

টোটো স্ট্যান্ডে চলত বেআইনি আদায়

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সাদ্দাম শেখ কালিয়াচকের ঘড়িয়ালীচকের বাসিন্দা এবং এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। কালিয়াচক চৌরঙ্গী ও সংলগ্ন এলাকার টোটো স্ট্যান্ডগুলি থেকে প্রতিদিন টোটো চালকদের ভয় দেখিয়ে বেআইনিভাবে ‘তোলা’ আদায় করত সাদ্দাম ও তার অনুগামীরা। গরিব টোটো চালকেরা টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁদের রুট থেকে বাদ দেওয়া এবং মারধরের হুমকিও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে এই জুলুম চলায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগী চালকেরা।

রাতের অন্ধকারে মেগা অপারেশন

অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে কালিয়াচক থানার পুলিশ। শুক্রবার রাতে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ঘড়িয়ালীচক এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম শেখকে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলায় তাঁকে সরকারিভাবে গ্রেফতার করা হয়।

তোলাবাজি নিয়ে জিরো টলারেন্স: পুলিশ সুপার

রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলের পর পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিনহা স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন:

“জেলায় কোনো ধরণের তোলাবাজি, কাটমানি বা সিন্ডিকেট রাজ বরদাস্ত করা হবে না। সে কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় রয়েছে, তা দেখা হবে না। সাধারণ মানুষ বা খেটে খাওয়া শ্রমিকদের ওপর জুলুমবাজি চললে পুলিশ প্রশাসন দলমত নির্বিশেষে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ নেবে।”

পুলিশ সুপার আরও জানান, এই তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে এবং এই তোলার টাকার ভাগ ওপরের স্তরে কার কাছে যেত, তা জানতে সাদ্দাম শেখকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অন্যদিকে, ক্ষমতা হারানোর পর মালদাতেও একের পর এক নেতার এই ধরণের অপরাধমূলক কাজে নাম জড়ানোয় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *