ফের পুলিশের বড় সাফল্য, গ্রেফতার টিএমসিপি সভাপতি

ফের পুলিশের বড় সাফল্য, গ্রেফতার টিএমসিপি সভাপতি

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ধরপাকড় অভিযান জারি রয়েছে। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রভাবশালী সভাপতি রন্তু দাস। হুমকি প্রদর্শন, তোলাবাজি এবং একাধিক বেআইনি কারবারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে শুক্রবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মহেশতলা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাজ্যজুড়ে তল্লাশি ও মহেশতলায় পাকড়াও

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত রন্তু দাসের আদি বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহরের মিলনপাড়া এলাকায়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এবং তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই নিজের এলাকা রায়গঞ্জ থেকে আচমকা উধাও হয়ে যান এই ছাত্র নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু থাকায় পুলিশ তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছিল। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মহেশতলার একটি গোপন আস্তানা থেকে তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করে।

রায়গঞ্জ থানায় এনে ম্যারাথন জেরা

মহেশতলায় গ্রেফতারির পর শনিবার ভোরেই কড়া ট্রানজিট রিমান্ডে ট্রেনের মাধ্যমে রন্তু দাসকে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ চালানো, সাধারণ ব্যবসায়ী ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের হুমকি দেওয়া এবং বিভিন্ন বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি এলাকায় যে সমান্তরাল শাসন চালাচ্ছিলেন, তার সমস্ত খতিয়ান খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আইন নিজের পথে চলবে: জেলা প্রশাসন

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এই দাপুটে নেতার গ্রেফতারি প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক রঙ হয় না। রন্তু দাসকে আজই রায়গঞ্জ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ, যাতে তাঁর এই বেআইনি কারবারের নেটওয়ার্কের গভীরে পৌঁছানো সম্ভব হয়। অন্যদিকে, জেলা স্তরের একের পর এক নেতার গ্রেফতারিতে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *