ছোট ও মাঝারি করদাতাদের জন্য সুখবর, ২০২৬-২৭ হিসাববর্ষের ITR-১ ও ITR-৪ জমা নেওয়ার অনলাইন প্রক্রিয়া শুরু করল আয়কর দফতর

চলতি অর্থবর্ষের আয়কর রিটার্ন (Income Tax Return) জমার দেওয়ার জন্য অপেক্ষার অবসান ঘটল। ছোট এবং মাঝারি করদাতাদের জন্য ITR-১ (সহজ) এবং ITR-৪ (সুগম) ফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মূল প্রক্রিয়াটি অফিশিয়ালি চালু করে দিল কেন্দ্রীয় আয়কর দফতর। ২০২৬-২৭ হিসাববর্ষের (Assessment Year) জন্য করদাতারা এখন সরাসরি আয়কর দফতরের ই-ফাইলিং পোর্টালে (e-Filing Portal) গিয়ে নিজেদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
মার্চে প্রকাশ, মে মাসে কার্যকর
আয়কর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, করদাতারা যাতে আগেভাগেই নিজেদের নথিপত্র গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারেন, তার জন্য গত ৩০ মার্চই এই দুই ফর্মের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার মে মাসের মাঝামাঝি এসে ই-ফাইলিং পোর্টালে এই ফর্ম দুটির অনলাইন উপযোগিতা সম্পূর্ণ লাইভ বা কার্যকর (Active) করে দেওয়া হলো। এর ফলে চাকরিজীবী এবং ছোট ব্যবসায়ীরা কোনো রকম দেরি না করেই আইটিআর ফাইল করতে পারবেন।
সহজ ও সুগম ফর্ম কাদের জন্য?
এই দুটি ফর্ম মূলত দেশের সিংহভাগ সাধারণ করদাতার রিটার্ন ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:
- ITR-১ (সহজ): এটি মূলত সেই সমস্ত চাকরিজীবী ও নাগরিকদের জন্য, যাঁদের বার্ষিক আয় ৫০ লক্ষ টাকার নিচে এবং আয়ের উৎস বেতন, একটিমাত্র বাড়ি বা সম্পত্তি, পেনশন কিংবা অন্যান্য সাধারণ উৎস (যেমন ব্যাঙ্কের সুদ)।
- ITR-৪ (সুগম): এই ফর্মটি প্রযোজ্য সেই সমস্ত ব্যক্তি, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF) এবং ফার্মের ক্ষেত্রে, যাঁদের ব্যবসা বা পেশাগত বার্ষিক আয় ৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে এবং যাঁরা ‘অনুমানিক আয়’ বা প্রিজাম্পটিভ ট্যাক্সেশনের (Presumptive Taxation) সুবিধা নেন।
রিটার্ন জমার শেষ সময়সীমা
আয়কর দফতরের তরফ থেকে ফর্ম দুটির অনলাইন প্রক্রিয়া চালুর পাশাপাশি রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ বা ডেডলাইনও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে:
- সহজ (ITR-১) ফর্মের ক্ষেত্রে: সাধারণ চাকরিজীবী করদাতাদের ক্ষেত্রে কোনো জরিমানা ছাড়া রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা হলো আগামী ৩১ জুলাই।
- সুগম (ITR-৪) ফর্মের ক্ষেত্রে: যে সমস্ত ছোট ব্যবসায়ী বা পেশাদারদের খাতা-পত্র অডিট (Audit) করানোর প্রয়োজন হয় না, তাঁরা সুগম ফর্মের মাধ্যমে আগামী ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত নিজেদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
আয়কর বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ মুহূর্তের যান্ত্রিক গোলযোগ ও জরিমানা এড়াতে করদাতাদের উচিত ফর্ম দুটি লাইভ হতেই দ্রুত নিজেদের ফর্ম ১৬ (Form 16) এবং অন্যান্য আর্থিক বিবরণী মিলিয়ে রিটার্ন ফাইল করে দেওয়া।