নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাস্টারমাইন্ড পুনের বোটানির শিক্ষক এবার সিবিআই জালে

জাতীয় স্তরের চিকিৎসকদের প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’র প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুনে থেকে মনীষা গুরুনাথ মানধারে নামের এক বোটানির শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বোটানি ও জুলজির প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেপথ্যে এই শিক্ষকের মূল ভূমিকা ছিল। এই নিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ছয়টি প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, মোবাইল ও ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা।
বিশেষজ্ঞের আড়ালে প্রশ্ন চুরির ছক
তদন্তে জানা গেছে, ধৃত শিক্ষক মনীষা গুরুনাথ মানধারে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-এর বিশেষজ্ঞ প্যানেলে নিযুক্ত ছিলেন। সেই সুবাদে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপ্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। পরীক্ষার আগে এপ্রিল মাসে মনীষা ওয়াগমার নামের এক দালালের মাধ্যমে তিনি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। এরপর নিজের বাড়িতেই বিশেষ কোচিং ক্লাসের আড়ালে বোটানি ও জুলজির আসল প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের খাতায় ও পাঠ্যবইয়ে নোট করিয়ে দেন। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে এই শিক্ষকের দেওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।
মেধার ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ পরীক্ষা পদ্ধতি
প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই বড়সড় চক্রের কারণে দেশজুড়ে ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অনিয়ম ও জালিয়াতি সামনে আসতেই পূর্ববর্তী পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় নিয়ামক সংস্থা এনটিএ। এই ঘটনার প্রভাবে আগামী ২১ জুন পুনরায় নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এবার প্রশ্ন ফাঁসের ঝুঁকি এড়াতে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ অনলাইন মাধ্যমে পরীক্ষা আয়োজনের নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে গ্রেফতার হওয়া মূল অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছে সিবিআই।