নেদারল্যান্ডসেও এবার মোদীর মুখে বাংলার ঝালমুড়ি!

নেদারল্যান্ডসেও এবার মোদীর মুখে বাংলার ঝালমুড়ি!

পাঁচ দেশীয় সফরের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফর শেষ করে নেদারল্যান্ডসে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে হেগ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। আর সেই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ভারতের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের খতিয়ান এবং একই সঙ্গে বাংলার বিখ্যাত ‘ঝালমুড়ি’ প্রসঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শেষ হলেও বাঙালির এই প্রিয় মুখরোচকের স্বাদ ও স্মৃতি যে এখনও সমান টাটকা, তা প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যেই স্পষ্ট।

প্রবাসী মঞ্চে ভোট উৎসব ও ঝালমুড়ির স্মৃতিচারণ

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের যুবসমাজের অগ্রগতি ও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির জয়যাত্রার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভারতে অলিম্পিক আয়োজনের ইচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। এই আলোচনার মাঝেই তিনি সম্প্রতি শেষ হওয়া পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টানেন।

প্রধানমন্ত্রী যখন আসাম ও বাংলার নির্বাচনের কথা বলছিলেন, তখন উপস্থিত প্রবাসী ভারতীয়রা তুমুল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দর্শকদের এই উন্মাদনা দেখে বক্তব্য থামিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বভাবসুলভ রসিকতার সুরে প্রশ্ন করেন, “ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে?” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য শোনার পর পুরো প্রেক্ষাগৃহ করতালিতে ফেটে পড়ে।

ভোট রাজনীতিতে বাঙালির আবেগ ও ঝালমুড়ি কূটনীতি

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার প্রচারের ময়দানে রাজনীতি ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন দেখা গিয়েছিল। বিশেষ করে বিজেপি প্রার্থীদের প্রচারে বাঙালির মাছ ও মাছ-ভাতের আবেগ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে ভোটের আবহে সবচেয়ে বড় চমকটি দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। ঝাড়গ্রামে প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তিনি রাস্তার ধারের একটি দোকান থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে নিজে খান এবং সহকর্মীদেরও খাওয়ান।

প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার সেই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষ করা হলেও, ঝালমুড়ি যে ভোটের ময়দানে অন্যতম প্রধান ‘হট টপিক’ হয়ে উঠেছিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

জনসাধারণের অংশগ্রহণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব

শুধু রসিকতাই নয়, প্রবাসী মঞ্চ থেকে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আসাম, বাংলা, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির নির্বাচনে এবার রেকর্ড ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই বিপুল ভোটদানের পেছনে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঘরোয়া রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতির উপাদান হিসেবে ‘ঝালমুড়ি’র মতো প্রসঙ্গের অবতারণা করে প্রধানমন্ত্রী আসলে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে একটি গভীর আত্মিক ও আবেগঘন সংযোগ তৈরি করতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আমজনতার, বিশেষ করে নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে দেশের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর বার্তাই দিলেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *