শুভেন্দুর কড়া বার্তার পরই শোরগোল, এবার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও গ্রামবাসীদের!

সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও কাটমানি রুখতে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে কড়া বার্তা আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে শনিবারই কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। আর এই বার্তার পরই উত্তরবঙ্গের দিনহাটায় এক তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাংলা আবাস যোজনার নাম করে নেওয়া ‘ঘুষের টাকা’ অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবিতে এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
তৃণমূল উপপ্রধানের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু দিনহাটার পুটিমারী ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত। অভিযোগের তির সেখানকার তৃণমূল পরিচালিত উপপ্রধান প্রিয়ঙ্কর রায় বর্মনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাংলা আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করেছেন ওই উপপ্রধান। কারও কাছ থেকে দশ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে কুড়ি হাজার টাকা পর্যন্ত তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে উপপ্রধান বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলেও গ্রামবাসীরা ক্ষোভ উগরে দেন।
শনিবার দুপুরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে উপপ্রধানের বাড়ি ঘেরাও করেন। তবে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকেই অভিযুক্ত প্রিয়ঙ্কর বর্মন পলাতক বলে জানা গেছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও উপপ্রধানের অবস্থান সম্পর্কে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা সাময়িকভাবে ফিরে গেলেও, টাকা ফেরত না পেলে আগামী দিনে বড়সড় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
প্রশাসনের কড়া অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের সাম্প্রতিক কড়া অবস্থান। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কেউ কাটমানি নিলে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ডিজিটাল মাধ্যম বা ব্যাংকের প্রমাণ না থাকলেও অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে তদন্তকারী আধিকারিকরা।
প্রশাসনের এই গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পরই এতকাল মুখ বুজে থাকা ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর রাজ্যজুড়ে কাটমানি বিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার হতে পারে। জেলা স্তরের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের ওপর চাপ যেমন বাড়বে, তেমনই অতীতে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় দিকে দিকে এই ধরনের গণবিক্ষোভের পুনরাবৃত্তি ঘটার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।