এসআইআরে নাম বাদ পড়লেও মিলবে সরকারি পরিষেবা, মতুয়াদের পাশে থাকার বড় আশ্বাস খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার

এসআইআরে নাম বাদ পড়লেও মিলবে সরকারি পরিষেবা, মতুয়াদের পাশে থাকার বড় আশ্বাস খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার

এসআইআরে (SIR) নাম বাদ পড়া নিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে তৈরি হওয়া তীব্র আতঙ্কের মাঝেই এবার বড়সড় অভয়বার্তা দিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়া এই বিজেপি নেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, নাম বাদ পড়লেও কোনো উদ্বাস্তু মতুয়া সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন না। তবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি নাম বাদ পড়া মানুষদের দ্রুত সিএএ (CAA) বা নাগরিকত্ব সংশোধন আইনে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সম্প্রতি রাজ্যে এসআইআরের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যার বড় প্রভাব পড়েছে মতুয়া সম্প্রদায়ের ওপর। বিশেষ করে বনগাঁ মহকুমা অঞ্চলের মতুয়াদের একটি বিশাল অংশ এই তালিকায় নাম না থাকায় রেশনসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছিলেন। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে এই ইস্যুটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তবে ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, মতুয়াগড় নিজেদের দখলেই রাখতে সক্ষম হয়েছে গেরুয়া শিবির। মতুয়া অধ্যুষিত সবক’টি আসনেই জয়ী হয়েছে বিজেপি।

সিএএ-তেই লুকিয়ে স্থায়ী সমাধান

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসআইআর তালিকার জটিলতাই মতুয়াদের একাংশকে সিএএ-র দিকে আরও বেশি চালিত করছে। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সবসময় মতুয়াদের পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও নির্বাচনী প্রচারে মতুয়াদের সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে এই আইনি জটিলতা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে দ্রুত সিএএ-র ফর্ম পূরণ করা জরুরি বলে মনে করছেন মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে উদ্বাস্তু মতুয়াদের এই নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করেছিলেন।

আপাতত মন্ত্রীর এই আশ্বাসে রেশন বা অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা বন্ধ হওয়ার ভয় কাটলেও, মতুয়াদের একটি বড় অংশ এখনও সিএএ-র আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে দোলাচলে রয়েছেন। অনেকেই ইতিমধ্যে আবেদন করলেও, যারা এখনও করেননি, তাঁদের জন্য দ্রুত ফর্ম ফিলাপ করাই এখন মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের এই নমনীয় অবস্থান এবং কেন্দ্রীয় আশ্বাসের ফলে মতুয়া অধ্যুষিত সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে সাময়িকভাবে উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *