পরমাণু বোমার মালিক হতে পারবে না ইরান, শত বিরোধের মাঝেও একমত ট্রাম্প ও জিনপিং

পরমাণু বোমার মালিক হতে পারবে না ইরান, শত বিরোধের মাঝেও একমত ট্রাম্প ও জিনপিং

ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের মধ্যে নানামুখী দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা ও তাইওয়ান সংকট বজায় থাকলেও একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক বিষয়ে একমত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই মহাশক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক বোমার মালিক হতে পারবে না। তিন দিনের চিন সফরে গিয়ে বেজিংয়ে প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে এক ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এই বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের দাবি, ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা থাকা যে অত্যন্ত বিপজ্জনক, এই বিষয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়েও দুই দেশ একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

তেহরানের ওপর বেজিংয়ের প্রভাব ও কূটনৈতিক সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে চিনের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল কেনে বেজিং। ফলে তেহরানের ওপর চিনের এক ধরণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন যদি এই প্রভাব খাটিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে, তবে তা বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেবে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবির বিপরীতে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি ইরান প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাত কখনই হওয়া উচিত ছিল না এবং দিনের পর দিন এটি চলতে থাকারও কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বৈঠকের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতি

এই বৈঠকের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি ভাণ্ডারে। ট্রাম্প-জিনপিংয়ের এই সমঝোতা যদি সত্যিই কার্যকর হয়, তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত হবে, যা বিশ্ব বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

যদিও তাইওয়ান ইস্যু বা বাণিজ্যিক শুল্ক সংক্রান্ত মূল বিরোধগুলোর কোনো স্থায়ী সমাধান এই বৈঠকে মেলেনি, তবুও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঠেকাতে দুই দেশের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো বড় যুদ্ধ এড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *