সিবিএসই স্কুলে ১ জুলাই থেকেই নবম শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে তৃতীয় ভাষা

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সুপারিশ মেনে দেশের স্কুলশিক্ষায় এক বড়সড় বদল আনতে চলেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য তিনটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষা (আর-১, আর-২ এবং আর-৩) পড়তে হবে, যার মধ্যে অন্তত দুটি ভারতীয় ভাষা হওয়া আবশ্যক। ইংরেজিকে রাখা হয়েছে বিদেশি ভাষার তালিকায়। নতুন শিক্ষাবর্ষ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে যাওয়ায় এবং সব বই এখনও হাতে না আসায় বোর্ড জানিয়েছে, নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা যতদিন না তাদের নির্দিষ্ট পাঠ্যবই পাচ্ছে, ততদিন তারা ষষ্ঠ শ্রেণির তৃতীয় ভাষার পাঠ্যক্রম অনুসরণ করতে পারবে।
বইয়ের বিকল্প ও শিক্ষকদের ঘাটতি পূরণে বিশেষ ভাবনা
সিবিএসই-এর দাবি, মাধ্যমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ভাষাশিক্ষার মূল পাঠ্যক্রম ও ব্যাকরণে প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ মিল থাকে। ফলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তৃতীয় ভাষার ক্ষেত্রে ষষ্ঠ শ্রেণির বই ব্যবহার করলেও পড়ালেখায় বড় কোনো সমস্যা হবে না। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের স্থানীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী ছোটগল্প, কবিতা বা তথ্যভিত্তিক সাহিত্য উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে এবং ১ জুলাইয়ের আগেই ১৯টি ভাষায় ষষ্ঠ শ্রেণির বই স্কুলগুলিতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তবে এই নিয়ম চালুর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগ্য ভাষা শিক্ষকের অভাব। বহু স্কুলেই পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় বোর্ড কিছু অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে শিক্ষকরা অন্য বিষয় পড়ালেও নির্দিষ্ট ভারতীয় ভাষায় দক্ষ, সাময়িকভাবে তাঁদের কাজে লাগানো যাবে। এছাড়া বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে শিক্ষক ভাগ করে নেওয়া, অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পুনরায় নিয়োগের বিকল্প পথও খোলা রাখা হচ্ছে।
বদলের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো স্কুল স্তরে বহুভাষিক চর্চা বাড়ানো এবং পড়ুয়াদের ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও মাতৃভাষার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। তবে শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে জুলাই মাস থেকে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করায় স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর এক ধরনের বাড়তি মানসিক ও পরিকাঠামোগত চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে যোগ্য শিক্ষক ও সঠিক সময়ে বই পৌঁছানোর বিষয়টি এই নতুন শিক্ষানীতি সফল করার ক্ষেত্রে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।