জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় সাধারণ মানুষের পকেটে টান, বাড়তে পারে সংসারের একগুচ্ছ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম!

সম্প্রতি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এর একটি বড় প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘর থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর। বিশেষজ্ঞরা এবং এফএমসিজি (FMCG) কো ম্পা নিগুলো সতর্ক করে জানিয়েছেন, অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান পরিবহন খরচের জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা সরাসরি মধ্যবিত্তের মাসিক পারিবারিক বাজেটে আঘাত হানবে।
এফএমসিজি ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা
দেশের শীর্ষস্থানীয় এফএমসিজি কো ম্পা নিগুলো ইতিমধ্যেই উৎপাদন ও সরবরাহ খরচের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। বিস্কুট, স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, ভোজ্য তেল, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য এবং পানীয়ের মতো পণ্যগুলোর পরিচালন ব্যয়ের ৬ থেকে ১০ শতাংশই খরচ হয় লজিস্টিকস বা পরিবহন খাতে। ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে এই খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে সাবান, শ্যাম্পু, ডিটারজেন্টের মতো প্রসাধন ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর দাম বাড়তে পারে অথবা একই দামে প্যাকেটে পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, পরিবহন ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আমুল এবং মাদার ডেয়ারির মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি প্রতি লিটার দুধের দাম প্রায় ২ টাকা বাড়িয়েছে। এর চেইন রিয়্যাকশন হিসেবে দই, মাখন, পনির, চিজ এবং আইসক্রিমের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষি ও অনলাইন ডেলিভারি খাতে সামগ্রিক প্রভাব
সড়ক পরিবহনের ওপর দেশের সামগ্রিক খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল নির্ভরশীল হওয়ায় ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে শাকসবজি, ফলমূল, শস্য ও ডালের বাজারে। দূর-দূরান্ত থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি আর্থিক বোঝা গ্রাহকদের ওপরেই এসে বর্তাবে। এছাড়া, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। কৃষকরা ট্রাক্টর, সেচ পাম্প এবং ফসল কাটার যন্ত্রপাতির জন্য মূলত ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চাষাবাদের খরচ একলাফে অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ই-কমার্স, ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম এবং কুরিয়ার কো ম্পা নিগুলোর লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনলাইনে কেনাকাটা বা খাবার অর্ডার করার ক্ষেত্রে ডেলিভারি ফি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ছাড় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, জ্বালানির এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।