যুব সমাজকে ‘আরশোলা’ বলার অভিযোগ ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, আসল সত্যিটা কী?

দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দেশের যুব সমাজকে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তবে এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধান বিচারপতি শনিবার জানান, তাঁর মৌখিক পর্যবেক্ষণকে সংবাদমাধ্যমের একাংশ সম্পূর্ণ ভুলভাবে এবং প্রেক্ষাপট ছাড়া উদ্ধৃত করেছে। দেশের যুব সমাজকে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন এবং তাঁদের ‘উন্নত ভারতের স্তম্ভ’ বলে মনে করেন।
বিতর্কের সূত্রপাত ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এক আইনজীবীর আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সিনিয়র অ্যাডভোকেট বা বরিষ্ঠ আইনজীবীর মর্যাদা পাওয়ার জন্য ওই আবেদনকারীর অতিরিক্ত ব্যাকুলতা এবং ফেসবুকে তাঁর ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, সমাজে কিছু পরজীবী রয়েছে যারা মূল ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে। কিছু তরুণ রয়েছে যারা কোনো কাজ বা পেশাগত অবস্থান না পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া, সংবাদমাধ্যম কিংবা আরটিআই (RTI) কর্মী সেজে সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে। আদালতের এই কঠোর পর্যবেক্ষণ ঘিরেই দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। একই সঙ্গে ভুয়ো ও জাল ডিগ্রির সাহায্যে যারা আইন পেশায় যুক্ত হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রয়োজনে সিবিআই (CBI) তদন্তের ইঙ্গিত দেয় শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতির ব্যাখ্যা ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিতর্ক বাড়তেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করেন যে, তাঁর মন্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি কেবল সেইসব অসাধু ব্যক্তিদের সমালোচনা করেছিলেন যারা জাল সার্টিফিকেট নিয়ে আইন, সংবাদমাধ্যম বা অন্যান্য সম্মানজনক পেশায় ঢুকে পরজীবীর মতো কাজ করছে। দেশের সাধারণ যুব সমাজকে আসাম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। বিচার বিভাগের এই কঠোর মনোভাবের ফলে আগামী দিনে ভুয়ো ডিগ্রিধারী আইনজীবী এবং সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া বার্তার পর সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী আইনজীবী বেঞ্চের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাঁর আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।