যৌনবর্ধক ওষুধের ওভারডোজ নাকি খুন? নয়ডায় যৌনকর্মীর রহস্যমৃত্যু, ঘর থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত দেহ

যৌনবর্ধক ওষুধের ওভারডোজ নাকি খুন? নয়ডায় যৌনকর্মীর রহস্যমৃত্যু, ঘর থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত দেহ

দিল্লির উপকণ্ঠ নয়ডার সেক্টর-৬৩ থানা এলাকার চোটপুর কলোনিতে এক যুবকের ঘর থেকে এক যৌনকর্মীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার দিন রাতে ওই যুবক ফোনে ডেকে ওই নারীকে নিজের ঘরে নিয়ে এসেছিলেন। পরদিন সকালে দীর্ঘক্ষণ ডাকার পরেও ওই নারী সাড়া না দেওয়ায় এবং তার কান দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখে যুবকের মনে সন্দেহ জাগে। এরপরই সে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশকে পুরো বিষয়টি জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট যুবককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

তদন্ত ও প্রাথমিক অনুমান

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চোটপুর কলোনির একটি ভাড়া ঘরে থাকা ওই যুবক সেক্টর-৬৩-এর একটি কারখানায় কাজ করেন। এর আগেও ওই নারী দুই থেকে তিনবার তার ঘরে এসেছিলেন। ঘটনার রাতে দুজনে মিলে অতিরিক্ত মদ্যপান করেছিলেন বলে যুবকটি স্বীকার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং যৌন উদ্দীপক ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রায় (ওভারডোজ) সেবনের কারণে এই মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন, যার ফলে এলাকায় মৃদু উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

পরিচয় শনাক্তকরণের চেষ্টা

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ও ফরেনসিক দল প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। মৃত নারীর কাছ থেকে কোনো পরিচয়পত্র উদ্ধার না হওয়ায় তার পরিচয় জানা প্রথমে কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ফোনের অধিকাংশ নম্বর গ্রাহকদের হলেও, দুটি নম্বর তার পরিচিতদের বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিখুঁতভাবে পরিচয় উদ্ঘাটন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে।

এক ঝলকে

  • নয়ডার চোটপুর কলোনিতে এক যুবকের ঘর থেকে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার।
  • অতিরিক্ত মদ্যপান ও যৌন উদ্দীপক ওষুধের ওভারডোজের কারণে মৃত্যুর প্রাথমিক অনুমান।
  • স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে খুনের আশঙ্কা এবং এলাকায় চাঞ্চল্য।
  • পরিচয় শনাক্ত করতে মৃতার মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *