রিলস নেশায় তছনছ সংসার! ছোট পোশাকে ভিডিও করায় অপমানে বিষ খেলেন শ্বশুর-শাশুড়ি

রিলস নেশায় তছনছ সংসার! ছোট পোশাকে ভিডিও করায় অপমানে বিষ খেলেন শ্বশুর-শাশুড়ি

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার এবং পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় কত বড় ট্র্যাজেডি ডেকে আনতে পারে, তার এক ভয়াবহ উদাহরণ তৈরি হলো হরিয়ানার জলপথ জেলায়। জেলার নারা গ্রামে পুত্রবধূর বেপরোয়া জীবনযাত্রা, সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও পোস্ট এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন এক দম্পতি। মৃতরা হলেন রাজেশ (৪৬) এবং সুমন (৪৪)।

সামাজিক বিড়ম্বনা ও পারিবারিক কলহ

ঘটনার সূত্রপাত বছর দুয়েক আগে, যখন রাজেশ-সুমনের ছেলে আশীষের সঙ্গে স্নেহা নামে এক তরুণীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই পরিচয় হয়। প্রেম গড়ালে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের অল্পদিন পরেই সংসারে অশান্তি শুরু হয়। নারা গ্রামের রক্ষণশীল পরিবেশে বাস করলেও স্নেহা ছিলেন অত্যন্ত আধুনিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত। তিনি নিয়মিত খোলামেলা পোশাকে ভিডিও বা ‘রিলস’ তৈরি করে ইন্টারনেটে আপলোড করতেন। গ্রাম্য পরিবেশে এমন আচরণে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছিলেন রাজেশ ও সুমন। তারা বারবার স্নেহাকে এসব থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি, উল্টো শুরু হয় শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর অকথ্য নির্যাতন।

সন্তানের নীরবতা এবং চরম পরিণতি

মৃত দম্পতির আত্মীয়দের অভিযোগ, পুত্রবধূ স্নেহা শুধু মৌখিকভাবে নয়, মাঝেমধ্যে শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর শারীরিক আক্রমণও চালাতেন। এই দীর্ঘস্থায়ী বিবাদের মধ্যে ছেলের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়। নিজ সন্তান পাশে না দাঁড়িয়ে বরং স্ত্রীর পক্ষ নেওয়ায় রাজেশ ও সুমন চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। গত শনিবার কলহ চরম পর্যায়ে পৌঁছালে অভিমানে ওই দম্পতি বিষপান করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

পুলিশ এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মৃত রাজেশের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে স্নেহা ও তার পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাটি আধুনিক জীবনধারা এবং ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কাঠামোর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের এক করুণ প্রতিচ্ছবি হিসেবে সামনে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *