“অফিসারদের সামনে নো পলিটিক্স!” তৃণমূলী ‘কালচার’ বদলে হাতজোড় করে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকারি আধিকারিকদের উপস্থিতিতে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা বা প্রশ্ন করা চলবে না। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলের রীতিনীতিকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে খোলনলচে বদল
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন যে, বিগত সরকারের আমলের চেনা পরিচিত ‘কালচার’ বা সংস্কৃতি এবার বন্ধ হতে চলেছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সরকারি মিটিংয়ের মধ্যে অফিসারদের নাম ধরে ডাকা কিংবা ‘তুমি তুমি’ করে সম্বোধন করার যে রেওয়াজ তৈরি হয়েছিল, তা আর বরদাস্ত করা হবে না। দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আইএএস বা আইপিএস অফিসারদের যথাযোগ্য সম্মান বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হাতজোড় করে মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ জানান, রাজনৈতিক কোনো প্রশ্ন থাকলে তা যেন তাঁকে আলাদাভাবে করা হয়, সরকারি অফিসারদের সামনে যেন রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি না চলে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে প্রায়শই সরকারি মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য পেশ এবং রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সরকারি নীতি ঘোষণার অভিযোগ উঠত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের সেই ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে প্রশাসনকে রাজনীতির বাইরে রাখতেই বর্তমান বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত। এর মূল কারণ হলো আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনের পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনা।
এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে এক ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অফিসাররা রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার আত্মবিশ্বাস পাবেন, যা সামগ্রিক প্রশাসনিক গতিশীলতা ও ডিসিপ্লিনকে আরও মজবুত করবে। তবে নতুন এই নিয়ম সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলের কাজের ধরনে কতটা পরিবর্তন আনে, সেটাই এখন দেখার।