ব্যাঙ্কে টাকা জমা দিতেই ম্যানেজারের সন্দেহ, পুলিশ আসতেই ফাঁস হলো যুবকের ভয়ঙ্কর কীর্তি!

ব্যাঙ্কে টাকা জমা দিতেই ম্যানেজারের সন্দেহ, পুলিশ আসতেই ফাঁস হলো যুবকের ভয়ঙ্কর কীর্তি!

উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের চিনহাটে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখায় টাকা জমা দিতে গিয়ে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হলেন এক যুবক। আসল নোটের তাড়ার মাঝে জাল নোট লুকিয়ে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সময় ব্যাংক ম্যানেজারের সতর্কর্তায় এই জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস হয়। ধৃত যুবকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

ম্যানেজার ও পুলিশের তৎপরতায় আসল রহস্যের উন্মোচন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত যুবকের নাম সৌরভ কুমার শুক্লা, তিনি গোন্ডা জেলার পরসপুরের বাসিন্দা। লখনউয়ের দেবা রোডে অবস্থিত ব্যাংক অফ বরোদার (BOB) একটি শাখায় ৩৩ হাজার টাকা জমা দিতে এসেছিলেন সৌরভ। ক্যাশ কাউন্টারে টাকা গণনার সময় ব্যাংক কর্মীদের নজরে আসে যে, ৫০০ টাকার ১৪টি নোট (মোট ৭,০০০ টাকা) সম্পূর্ণ জাল। বিষয়টি জানাজানি হতেই শাখার ম্যানেজার সুমিত সিং কালক্ষেপ না করে স্থানীয় চিনহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যাংকে পৌঁছে অভিযুক্ত যুবককে হেফাজতে নেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত যুবক জাল নোটের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করলেও, পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে আরও ২ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো বৈধ উৎস বা সঠিক নথিপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

জালিয়াতির কারণ ও সুসংগঠিত চক্রের ছক

পুলিশি জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন সৌরভ। তদন্তে জানা গেছে, তিনি একটি বড়সড় জাল নোট পাচার ও চেইঞ্জিং চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন। এই চক্রের মূল লক্ষ্য হলো, ব্যাংকের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে আসল নোটের বান্ডিলের ভেতরে সুকৌশলে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার জাল নোট ঢুকিয়ে দেওয়া। যে সমস্ত ব্যাংক শাখায় কড়া নজরদারি বা স্বয়ংক্রিয় নোট পরীক্ষক যন্ত্রের ঘাটতি থাকে, সেগুলোকে এরা মূল টার্গেট বানাত। কখনো ধরা পড়ে গেলে “অজান্তে চলে এসেছে” বলে পার পাওয়ার কৌশলও তৈরি রাখত এরা। চক্রের সদস্যরা প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যাংকে ৪ থেকে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এভাবে জমা দেওয়ার কাজ করত।

সম্ভাব্য প্রভাব ও তদন্তের অগ্রগতি

শহরের মূল ধারার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এভাবে জাল নোট ঢুকিয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে বাজারে জালনোটের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার এবং সাধারণ মানুষের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চিনহাট থানার পুলিশ পরিদর্শক দিনেশ চন্দ্র মিশ্র জানিয়েছেন, এই চক্রের শিকড় অনেক দূর বিস্তৃত। এই চক্রের মূল হোতা এবং বাকি সদস্যদের খোঁজে পুলিশ ইতিমধ্যেই বিশেষ দল গঠন করে অভিযান শুরু করেছে। খুব শীঘ্রই এই জালিয়াতি চক্রের সাথে জড়িত অন্য অপরাধীদেরও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *