“নতুন বয়ফ্রেন্ড খুঁজে দেব!” পিসি ও বোনকে দেহব্যবসায় নামানোর চেষ্টা ভাইঝির, অভিযুক্ত স্বামীও

“নতুন বয়ফ্রেন্ড খুঁজে দেব!” পিসি ও বোনকে দেহব্যবসায় নামানোর চেষ্টা ভাইঝির, অভিযুক্ত স্বামীও

পারিবারিক সম্পর্ক যেখানে বিপদে পাশে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে চরম বিশ্বাসভঙ্গ ও নৃশংসতার এক নজিরবিহীন ঘটনা সামনে এসেছে। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নিজের আপন ফুফু এবং বোনকে দেহব্যবসায় নামানোর জন্য লাগাতার চাপ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবতীর বিরুদ্ধে। এই নৃশংস পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ মূল অভিযুক্ত ভাগ্নি, নির্যাতিতার স্বামী এবং তার লিভ-ইন পার্টনারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলায়।

অর্থ আত্মসাৎ ও অনৈতিক প্রস্তাবের নীল নকশা

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত নির্যাতিতা ৫০ বছর বয়সী সুনীতার (নাম পরিবর্তিত) স্বামী বামন তাকে ছেড়ে বৈশালী নামের এক মহিলার সাথে লিভ-ইন করতে শুরু করার পর থেকে। স্বামী চলে যাওয়ায় চরম মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়া সুনীতাকে সান্ত্বনা দেওয়ার পরিবর্তে, তাঁর আপন ভাগ্নি মাধুরী এই পরিস্থিতির অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। সে ফুফু ও তার তরুণী মেয়েকে (সম্পর্কে মাধুরীর বোন) দেহব্যবসায় নামানোর জন্য ক্রমাগত মানসিক চাপ ও কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। এমনকি “তোমার স্বামী তো চলে গেছে, এবার আমি নতুন বয়ফ্রেন্ড খুঁজে দিচ্ছি” বলে লজ্জাজনকভাবে হুমকিও দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে মা ও মেয়ের ওপর এই নির্যাতন চলে। এর পাশাপাশি, পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে সুনীতার পাওয়া ২০ লাখ টাকা এবং সমস্ত স্ত্রীধন জোরপূর্বক কেড়ে নেয় তার স্বামী বামন। মা ও মেয়েকে ন্যূনতম খাবার ও বেঁচে থাকার খরচ থেকেও বঞ্চিত করে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।

সহিংসতা এবং সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

অভিযোগ অনুযায়ী, এই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে শুধু ভাগ্নিই নয়, নির্যাতিতার স্বামী এবং তার লিভ-ইন পার্টনারও সমানভাবে জড়িত ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুনীতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাকে নৃশংসভাবে মারধর করে স্বামী বামন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেও সন্তানদের মানসিক নির্যাতন করা হয়।

এই ঘটনার পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে: প্রথমত, নির্যাতিতার পৈতৃক সম্পত্তির বিপুল অর্থ ও গহনা আত্মসাৎ করার লোভ; এবং দ্বিতীয়ত, একাকী ও অসহায় নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে তাকে অনৈতিক অন্ধকার জগতে ঠেলে দেওয়ার নিখুঁত চক্রান্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি সমাজে পারিবারিক সুরক্ষার কঙ্কালসার রূপটি উন্মোচিত করেছে। এর ফলে সমাজে রক্তের সম্পর্কের প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে পারে। পাশাপাশি, নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থাকার পরেও পরিবারিক বলয়ে তারা কতটা असुरক্ষিত, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। সঠিক সময়ে পুলিশি হস্তক্ষেপ না হলে এই মা-মেয়েকে হয়তো এক অন্ধকার চোরাবালিতে হারিয়ে যেতে হতো, যা সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় ক্ষত তৈরি করত। বর্তমানে খোলপুরি গেট থানার পুলিশ এই ত্রিমুখী নির্যাতনের মামলাটির গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *