তোলাবাজির অভিযোগে শ্রীঘরে কৃষ্ণনগরের ‘প্রভাবশালী’ তৃণমূল নেতা! তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

তোলাবাজির অভিযোগে শ্রীঘরে কৃষ্ণনগরের ‘প্রভাবশালী’ তৃণমূল নেতা! তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

নদিয়ার কৃষ্ণনগরে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান সরজিৎ বিশ্বাস। শনিবার রাতে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। রবিবার ধৃত এই প্রভাবশালী শাসকদলীয় নেতাকে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজির করানো হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগেও এই নেতার নাম জড়িয়েছিল।

তোলাবাজির অভিযোগ ও গ্রেফতারি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিগনগরের একাধিক কারখানা এবং সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে টাকা আদায় বা তোলাবাজি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছিল সরজিতের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে পদক্ষেপ করে। তবে ধৃত তৃণমূল নেতার দাবি, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েই পুলিশ তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে এনেছে। নিজের ব্যবসা ছেড়ে রাজনীতিতে আসা এই নেতার দাবি, কোনো আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তিনি যুক্ত নন।

পাল্টা রাজনৈতিক তরজা

এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। ধৃত নেতা সরজিৎ বিশ্বাস এই ঘটনার পেছনে বিজেপির চক্রান্তের অভিযোগ তুললেও, সেই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির দাবি, রাজ্যে পরিবর্তনের পর পুলিশ এখন নিরপেক্ষভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পেয়েছে। শ্রমিকেরা সাহস করে অভিযোগ জানাতে পারাতেই এই আইনি পদক্ষেপ সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই তোলাবাজির পেছনে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারকেই অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এক ঝলকে

  • কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ ও প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান সরজিৎ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
  • দিগনগরের একাধিক কারখানা ও শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়মিত তোলাবাজি করার অভিযোগে এই পদক্ষেপ।
  • ধৃত নেতার দাবি তিনি নির্দোষ এবং বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।
  • অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির দাবি, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *