হরমুজে ভারতীয় জাহাজে একের পর এক হামলা! এবার রাষ্ট্রসংঘে গর্জে উঠল নয়াদিল্লি

হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিপন্ন আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং নাবিকদের জীবন। গত এক মাসে এই কৌশলগত জলপথে পণ্যবাহী ভারতীয় জাহাজগুলিকে যেভাবে ইচ্ছাকৃত লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তা নিয়ে এবার রাষ্ট্রসংঘে কড়া অবস্থান নিল নয়াদিল্লি। শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের বিশেষ বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের মধ্যে অসামরিক জাহাজে এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
ঝুঁকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক আইন
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্বতনেনি হরিশ বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম না করে জানান, বাণিজ্যিক জাহাজে এই লাগাতার আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এই সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মক সংকটের মুখে পড়তে পারে। ওমান উপকূলের কাছে সম্প্রতি ভারতের পতাকাবাহী একটি গবাদি পশু বোঝাই বাণিজ্যতরী ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার শিকার হয়ে সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যায়। ওমান উপকূলরক্ষী বাহিনী ১৪ জন নাবিক ও ১৩ জন কর্মীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও এই ঘটনা সামুদ্রিক নিরাপত্তার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
স্থায়ী সমাধানের খোঁজে নয়াদিল্লি
নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এই সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদী ও কাঠামোগত পদক্ষেপের সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এই অঞ্চলের নৌচলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। হরমুজ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রে ভারতীয় জাহাজের ওপর ঘন ঘন হামলা ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছে ভারত।
এক ঝলকে
- গত এক মাসে হরমুজ প্রণালী ও মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রে একাধিক পণ্যবাহী ভারতীয় জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।
- রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্বতনেনি হরিশ এই হামলার তীব্র নিন্দা করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছেন।
- ওমান উপকূলে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভারতের একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেলেও ওমান উপকূলরক্ষী বাহিনী সব নাবিক ও কর্মীকে উদ্ধার করেছে।
- সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে কড়া বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।