নিট কেলেঙ্কারিতে মোদীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন রাহুলের, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দেশ!

মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও পুনরায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা এবং পরীক্ষা বাতিলের জেরে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এই ইস্যুতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। বারবার পরীক্ষা ব্যবস্থার এই বিপর্যয় এবং লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার পেছনে সরকারের সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারের দায়বদ্ধতা ও রাহুল গান্ধীর আক্রমণ
রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০২৪ এবং ২০২৬ সালের নিট কেলেঙ্কারির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বারবার প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল ও সিবিআই তদন্তের একই চক্র আবর্তিত হলেও সরকার কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি। ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কেন এখনো পদত্যাগ করেননি, সেই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতাকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। বিরোধীদের দাবি, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে, যা সংসদ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বড় প্রতারণা।
রাজপথে শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রশ্নফাঁসের এই ধারাবাহিকতায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI)-এর নেতৃত্বে শত শত শিক্ষার্থী ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির সদর কার্যালয়ের বাইরে বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে হবে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত এনটিএ-কে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এই কেলেঙ্কারির ফলে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বস্ততা যেমন বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে, তেমনই লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পরিশ্রম ও মেধার অবমূল্যায়ন সামাজিক অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এক ঝলকে
- নিট ২০২৪ এবং ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুনরাবৃত্তি নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ রাহুল গান্ধীর।
- ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি।
- প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে এনটিএ সদর দপ্তরের বাইরে শিক্ষার্থীদের বিশাল বিক্ষোভ।
- আন্দোলনকারীদের মূল দাবি শিক্ষামন্ত্রীর বরখাস্ত এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা।