‘কতদিন মুখ বুজে সইব?’ ভোটের ফল মিটতেই রণক্ষেত্র হাওড়া, তৃণমূল প্রধানের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল জনতা!

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই রাজনৈতিক উত্তেজনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল হাওড়ার আমতা। সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এবং ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগে এক তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে গ্রামবাসীদের তুমুল ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রামপুরার কাশমলি এলাকায়। জনবিক্ষোভের আঁচ পেয়ে আগেই এলাকা ছেড়েছেন অভিযুক্ত শাসকদলের নেত্রী ও তাঁর স্বামী। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত এলাকায় নামাতে হয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
দুর্নীতির পাহাড় ও জনবিক্ষোভ
স্থানীয় কাশমলি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান অঞ্জলি দলুই এবং তাঁর স্বামী তথা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তরুণ দলুইয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল সাধারণ মানুষের মনে। অভিযোগ, সরকারি আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উপভোক্তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে কাটমানি নিয়েছেন তাঁরা। এর পাশাপাশি গরিব গ্রামবাসীদের ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড নিজেদের জিম্মায় রেখে উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে। এতদিন ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও, নির্বাচনের ফল মিটতেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।
রাজনৈতিক তরজা ও বর্তমান পরিস্থিতি
রবিবার অভিযুক্ত তৃণমূল দম্পতির অনুপস্থিতিতেই তাঁদের বাড়ি ঘিরে ধরে লাঠি-বাঁশ নিয়ে চড়াও হন উত্তেজিত বাসিন্দারা। বাড়ির জানলার কাচ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীদের দাবি, পঞ্চায়েত স্তরে এতদিন ধরে চলা প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাটের বিরুদ্ধেই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব একে বিরোধীদের উস্কানি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চক্রান্ত বলে পাল্টা দাবি করেছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকা এখনও থমথমে।
এক ঝলকে
- হাওড়ার আমতার কাশমলি গ্রাম পঞ্চায়তের তৃণমূল প্রধান অঞ্জলি দলুই ও তাঁর স্বামীর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও বিক্ষোভ।
- আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দিতে ২০ হাজার টাকা কাটমানি এবং ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা।
- নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল দম্পতি।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে জয়পুর থানার বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।