অ্যামাজন-ফ্লিপকার্ট-মিশোকে নোটিশ! অনলাইনে সন্দেহজনক কৃষি রাসায়নিক বিক্রি রুখতে কড়া কেন্দ্র

অ্যামাজন-ফ্লিপকার্ট-মিশোকে নোটিশ! অনলাইনে সন্দেহজনক কৃষি রাসায়নিক বিক্রি রুখতে কড়া কেন্দ্র

দেশের ডিজিটাল বাজারের পরিধি এখন শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। মোবাইল অ্যাপে এক ক্লিকেই এখন চাষের জন্য প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও ভেষজনাশক (হার্বিসাইড) অনায়াসে কিনতে পারছেন কৃষকরা। তবে এই সহজলভ্যতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক বড় বিপদের সন্ধান পেয়েছে কেন্দ্রীয় ভোক্তা সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ (সিসিপিএ)। তদন্তে দেখা গেছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে এমন কিছু সন্দেহজনক কৃষি রাসায়নিক বিক্রি হচ্ছে, যেগুলোর কোনো বৈধ নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেই।

ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিখাত

সিসিপিএ-এর তদন্তে উঠে এসেছে যে, অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, মিশো এবং জিওমার্টের মতো বড় বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘সাইক্লোসিনন হার্বিসাইড’ নামক একটি ভেষজনাশক বিক্রি করা হচ্ছিল, যা কীটনাশক আইনের অনুমোদিত তালিকায় নিবন্ধিতই নয়। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর অনলাইন বিজ্ঞাপনে এর রাসায়নিক গঠন, সক্রিয় উপাদান, লাইসেন্স নম্বর বা মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব সংক্রান্ত কোনো বাধ্যতামূলক সতর্কবার্তা দেওয়া ছিল না। সিসিপিএ স্পষ্ট জানিয়েছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো নিজেদের কেবল ‘মধ্যস্থতাকারী’ দাবি করে এই দায় এড়াতে পারে না।

সরকারের কড়া পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনাকে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বিবেচনা করে অভিযুক্ত ই-কমার্স সংস্থাগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে সরকার। একই সাথে গত দুই বছরে এই ধরনের পণ্যের মোট বিক্রি, বিক্রেতাদের বিশদ বিবরণ এবং প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব পণ্য যাচাইকরণ ব্যবস্থার তথ্য তলব করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম দাম ও চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে কৃষকরা এসব অমানক রাসায়নিক কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। এর প্রভাবে একদিকে যেমন ফসলের ক্ষতি ও মাটির গুণাগুণ নষ্ট হতে পারে, অন্যদিকে খাদ্যশস্যে বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বেড়ে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যের বড় ক্ষতি হতে পারে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের পর অনেক প্ল্যাটফর্ম ইতিমধ্যেই বিতর্কিত পণ্যগুলোর লিস্টিং সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

এক ঝলকে

  • অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, মিশো এবং জিওমার্টের মতো বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোকে অনিবন্ধিত ও সন্দেহজনক কৃষি রাসায়নিক বিক্রির দায়ে নোটিশ পাঠিয়েছে সিসিপিএ।
  • ‘সাইক্লোসিনন হার্বিসাইড’ নামক একটি অবৈধ রাসায়নিক কোনো প্রকার লাইসেন্স নম্বর বা ক্ষতিকর প্রভাবের সতর্কবার্তা ছাড়াই অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছিল।
  • এই ধরনের অমানক কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ফসলের ক্ষতি, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং খাদ্যশস্যে বিষাক্ত উপাদানের অবশিষ্টাংশ বেড়ে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।
  • অভিযুক্ত সংস্থাগুলোর গত দুই বছরের বিক্রির খতিয়ান চাওয়া হয়েছে এবং আগামী দিনে ডিজিটাল মাধ্যমে কৃষি রাসায়নিক বিক্রির ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *