NEET পেপার লিক ২০২৬: ২ সেট প্রশ্ন, ৩ মাস্টারমাইন্ড, ৪ চালবাজি আর ৫ রাজ্যে ছড়ানো জাল! সামনে এলো ইনসাইড স্টোরি

NEET পেপার লিক ২০২৬: ২ সেট প্রশ্ন, ৩ মাস্টারমাইন্ড, ৪ চালবাজি আর ৫ রাজ্যে ছড়ানো জাল! সামনে এলো ইনসাইড স্টোরি

মেধাতালিকার শীর্ষে ওঠার লড়াই বদলে গেল প্রশ্নফাঁসের কালো অধ্যায়ে! ২০২৬ সালের নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই যে তথ্য পেয়েছে, তা যেকোনো থ্রিলার সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। গত বছরের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার আরও বড়সড় জালিয়াতির মুখে পড়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। এবারের চক্রটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট রাজ্য বা কোচিং সেন্টারে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে দেশের অন্তত পাঁচটি রাজ্যে।

ভেতরের মানুষ ও প্রশ্নফাঁসের অভিনব কৌশল

তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি ছিল তিনজন মাস্টারমাইন্ড এবং এনটিএ-এর প্রশ্ন নির্ধারণ কমিটির ভেতরের কিছু সদস্য। প্রশ্নফাঁসের জন্য অত্যন্ত চতুরতার সাথে দুটি আলাদা প্রশ্নসেট তৈরি করা হয়। কমিটির সদস্য মনীষা ওয়াঘমারে তাঁর পুনের বাড়িতে বিশেষ কোচিং ক্লাসের আড়ালে পরীক্ষার্থীদের উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যার প্রশ্ন সরবরাহ করেন। অন্যদিকে, পি ভি কুলকার্নি নামের অপর এক সদস্য রসায়নের প্রশ্ন ফাঁস করেন। পরীক্ষার্থীদের সরাসরি প্রশ্নপত্র না দিয়ে বইয়ে দাগিয়ে দেওয়া কিংবা নোট নেওয়ার কৌশল শেখানো হয়েছিল, যাতে কোনো লিখিত প্রমাণ না থাকে। পরবর্তীতে সেই প্রশ্নগুলোর পিডিএফ তৈরি করে হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় নাসিক থেকে গুরগাঁও পর্যন্ত। একেকটি প্রশ্নসেট প্রায় ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল।

দেশজুড়ে জাল এবং সম্ভাব্য প্রভাব

গোয়েন্দাদের মতে, এই পুরো জালিয়াতিটি তিনটি স্তরে পরিচালিত হয়েছে—এনটিএ-এর ভেতরের তথ্যদাতা, শিক্ষার্থী ও অপরাধীদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া রিক্রুটার এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল। ইতিমধ্যেই দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানাসহ পাঁচ রাজ্য থেকে মনীষা গুরুনাথ মনধারে, শুভম খৈরনর ও যশ যাদবসহ নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রটির ধারণা ছিল, জালিয়াতি ধরা পড়লেও হয়তো গত বছরের মতো দু-একটি কেন্দ্রে পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে পার পাওয়া যাবে। কিন্তু এই লাগামহীন দুর্নীতির ফলে দেশজুড়ে প্রায় ২৩ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এই ঘটনার জেরে পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা এনটিএ-এর ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের এই বিশাল নেটওয়ার্কের কারণে আগামী ২১ জুন পুনর্পরীক্ষা (রী-এগজাম) নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে সংস্থাটি। সিবিআই এখন কেবল দালাল চক্র নয়, বরং এনটিএ-এর শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রশ্ন নির্ধারণ কমিটির পুরো প্যানেলকে সন্দেহের তালিকায় রেখে তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার ত্রুটি ও দুর্নীতির গভীরতা খতিয়ে দেখছে।

এক ঝলকে

  • এনটিএ-এর প্রশ্ন নির্ধারণ কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে নিট পরীক্ষার দুটি আলাদা প্রশ্নসেট ফাঁসের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
  • প্রশ্নফাঁস চক্রের তিন মাস্টারমাইন্ডের ইশারা ও চতুর কৌশলে পাঁচটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল এই জাল।
  • ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতিটি প্রশ্নসেট প্রায় ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়, যার শিকার দেশের ২৩ লাখ পরীক্ষার্থী।
  • জালিয়াতির অভিযোগে এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই এবং আগামী ২১ জুন পুনর্পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *